ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বহুল আলোচিত পারমাণবিক চুক্তিতে এসেছে এক নাটকীয় মোড়। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চুক্তি স্বাক্ষরের পর সরাসরি ইরানকে কোনো আর্থিক সহায়তা প্রদান করবে না যুক্তরাষ্ট্র। বরং ওয়াশিংটনের কৌশল হলো, উপসাগরীয় দেশগুলোর মাধ্যমে ইরানের জব্দকৃত সম্পদ অবমুক্ত করা। এই প্রক্রিয়ায় ইরান ২৪ বিলিয়ন ডলার হাতে পেতে পারে বলে জানা গেছে।
উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর ভরসা ওয়াশিংটনের ইরানি আলোচক দলের প্রধান গালিবফের উপদেষ্টা মোহাম্মদী জানিয়েছেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কবলে থাকা ইরানের সম্পদগুলো এখন উপসাগরীয় দেশগুলোর মাধ্যমে হস্তান্তরের পরিকল্পনা করা হয়েছে। চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পর কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সৌদি আরবের মতো দেশগুলো ইরানকে তাদের প্রাপ্য অর্থ বুঝিয়ে দেবে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানকে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার প্রদানের পথে রয়েছে। এর আগে রয়টার্সের খবর অনুযায়ী, আবুধাবি এরই মধ্যে ৩ বিলিয়ন ডলার দিয়েছে বলে শোনা গেলেও, আনুষ্ঠানিকভাবে তা অস্বীকার করা হয়েছে। পাশাপাশি, ২০২৩ সালে স্থগিত হওয়া কাতারের সেই ৬০০ কোটি ডলারও এই চুক্তির মাধ্যমে ইরান পেতে পারে।
জব্দ ১২০ বিলিয়ন ডলারের ভবিষ্যৎ বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইরানের প্রায় ১২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের সম্পদ মার্কিন নির্দেশে জব্দ অবস্থায় রয়েছে। আমেরিকা, ব্রিটেন, তুরস্ক, কাতার, চীন এবং ভারতের মতো দেশগুলোতে এই বিশাল অঙ্কের অর্থ আটকে আছে। পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে ইরানকে বিরত রাখার শর্তে এই তহবিল জব্দ করা হয়েছিল। চুক্তির নতুন রূপরেখা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ২৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়ের পাশাপাশি অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণের বিষয়টিও আলোচনায় উঠে এসেছে। তবে এই বিশাল অর্থের উৎস নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েই গেছে।
কেন সরাসরি অর্থ দিতে নারাজ আমেরিকা? বিশেষজ্ঞদের মতে, সরাসরি অর্থ প্রদানে আমেরিকার অনীহার পেছনে রয়েছে রাজনৈতিক ও কৌশলগত ঝুঁকি। ওয়াশিংটনের আশঙ্কা, আগেভাগেই অর্থ পরিশোধ করলে ইরান চুক্তি থেকে সরে আসতে পারে বা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ধ্বংস করার শর্ত পূরণ নাও করতে পারে। এছাড়া, ২০১৫ সালের ওবামা প্রশাসনের চুক্তির পর যেভাবে ট্রাম্প প্রশাসন সেই প্রক্রিয়াটিকে তীব্র সমালোচনার মুখে ফেলেছিল, বাইডেন প্রশাসন সেই একই বিতর্কে জড়াতে চাইছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের এই কৌশলী অবস্থান ইরানের অর্থনীতিতে কতটা স্বস্তি ফেরাবে, নাকি ভূ-রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়াবে—সেটাই এখন বিশ্ব রাজনীতির বড় প্রশ্ন।





