ভারতের কোনো প্রধানমন্ত্রীর প্রথম স্লোভাকিয়া সফর এক নতুন ইতিহাসের সাক্ষী থাকল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ১৪-১৫ জুনের এই সফরে দুই দেশের সম্পর্ক শুধুমাত্র বন্ধুত্বপূর্ণ নয়, বরং ‘ব্যাপক অংশীদারিত্ব’ (Comprehensive Partnership)-এর পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে। ব্রাতিস্লাভায় স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকোর সঙ্গে মোদীর বৈঠক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন যুগের সূচনা করেছে।
সম্পর্কের নতুন মাইলফলক: যৌথ সংবাদ বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী মোদী স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রীকে ভারতের ‘ঘনিষ্ঠ বন্ধু’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, “আমাদের এই সম্পর্ক পারস্পরিক আস্থা ও অভিন্ন ভবিষ্যতের প্রতীক।” স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকোকেও ভারতের অকৃত্রিম বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করেছেন মোদী।
১১টি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি: দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রকে প্রসারিত করতে ১১টি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি ও সমঝোতা স্বাক্ষরিত হয়েছে:
শ্রম ও অভিবাসন: শ্রমিকদের যাতায়াত সহজ করতে নতুন চুক্তি।
প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি: প্রতিরক্ষা সহযোগিতার জন্য ‘অভিপ্রায় পত্র’ (LoI) এবং ডিজিটাল প্রযুক্তিতে অংশীদারিত্ব।
শিক্ষা ও গবেষণা: আইআইটি দিল্লি ও স্লোভাক টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটির মধ্যে ছাত্র বিনিময় ও যৌথ গবেষণা। এছাড়া স্লোভাকিয়ার কোসিচে বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) ওপর প্রথম আইসিসিআর চেয়ার প্রতিষ্ঠার ঘোষণা।
স্বাস্থ্য ও সংস্কৃতি: পুনের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ন্যাচারোপ্যাথির সঙ্গে স্লোভাকিয়ার হেলথ স্পা পিয়েস্তানির চুক্তি। পাশাপাশি অডিও-ভিজ্যুয়াল নির্মাণ ও পর্যটন ক্ষেত্রেও বড় চুক্তি হয়েছে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি: ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল সায়েন্স একাডেমি (INSA) এবং স্লোভাক একাডেমি অফ সায়েন্সেস (SAS)-এর মধ্যে বৈজ্ঞানিক সহযোগিতার চুক্তি।
৩টি বড় ঘোষণা: এই সফরকে ফলপ্রসূ করে তুলতে তিনটি সুদূরপ্রসারী ঘোষণা দেওয়া হয়েছে: ১. সমন্বিত অংশীদারিত্ব: দুই দেশের সম্পর্ক এখন ‘ব্যাপক অংশীদারিত্ব’-এর অধীনে। ২. সন্ত্রাসবাদ দমন: সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় সহযোগিতার জন্য একটি যৌথ ‘সন্ত্রাসবাদ দমন কার্যকরী দল’ গঠন। ৩. কনস্যুলার সংলাপ: ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতা কাটাতে ও প্রশাসনিক সহযোগিতার জন্য একটি নতুন কনস্যুলার সংলাপ ব্যবস্থা চালু।
প্রধানমন্ত্রীর এই ঐতিহাসিক সফর ভারত ও স্লোভাকিয়ার মধ্যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ও কৌশলগত সম্পর্ককেও এক অভূতপূর্ব উচ্চতায় নিয়ে গেল। প্রতিরক্ষা থেকে শুরু করে কোয়ান্টাম প্রযুক্তির মতো আধুনিক ক্ষেত্রগুলোতে এই সহযোগিতা আগামী দিনে দুই দেশের অর্থনীতি ও গবেষণায় নতুন গতির সঞ্চার করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।





