দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে বড়সড় অগ্রগতি হলো সোমবার। গত কয়েক মাস ধরে চলমান আমেরিকা ও ইরানের চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মোড় ঘুরিয়ে দিয়ে দুই দেশ শান্তি চুক্তির পথে হাঁটছে। এই ঐতিহাসিক সমঝোতাকে সোমবার স্বাগত জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রীর মতে, এই চুক্তির ফলে কেবল যুদ্ধের রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতিরই অবসান হবে না, বরং আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও সমুদ্রপথে বাণিজ্য আবারও তার স্বাভাবিক ছন্দে ফিরবে।
সোমবার সমাজমাধ্যমে নিজের বার্তায় প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত বিশ্বজুড়ে অগণিত প্রাণহানি এবং অর্থনীতির ওপর গভীর ক্ষত তৈরি করেছে। সেই প্রেক্ষাপটে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে এই সমঝোতা এক আশার আলো। ভারত বরাবরই যে কূটনীতি ও আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির কথা বলে এসেছে, এই চুক্তি তারই প্রতিফলন বলে মনে করছে নয়াদিল্লি। যেসব বিষয় এখনো অমীমাংসিত রয়েছে, সেগুলোরও দ্রুত ও সুষ্ঠু সমাধানের বিষয়ে আশাবাদী মোদী।
গত কয়েক মাস ধরে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি বিশ্ব জ্বালানি বাজারে মারাত্মক অস্থিরতা তৈরি করেছিল। হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অনিশ্চয়তার ফলে বিশ্বজুড়ে পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল, যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছিল অপরিশোধিত তেলের দামের ওপর। ভারতের মতো জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর এর চাপ ছিল লক্ষণীয়। কূটনৈতিক মহলের খবর অনুযায়ী, টানা কয়েক দিনের গোপন ও প্রকাশ্য আলোচনার পর অবশেষে শান্তি প্রস্তাবে সম্মত হয়েছে ওয়াশিংটন ও তেহরান। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় এই চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হবে।
এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে হামলা ও পাল্টা হামলার আশঙ্কা কমে আসবে এবং হরমুজ প্রণালী আবারও আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের জন্য সম্পূর্ণভাবে খুলে দেওয়া হবে। ভারত বহু আগে থেকেই হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা ও অবাধ নৌ-চলাচলের পক্ষে নিজের জোরালো অবস্থান বজায় রেখেছে। গত তিন মাসে প্রধানমন্ত্রী মোদী একাধিক বিশ্বনেতার সঙ্গে আলোচনায় বারবার জোর দিয়েছেন যে, শান্তি ও স্থিতিশীলতা কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের বিষয় নয়, বরং তা বিশ্ব নিরাপত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ। ভারতের পররাষ্ট্রনীতি অনুযায়ী, যুদ্ধের চেয়ে সংলাপ অনেক বেশি শক্তিশালী। এখন গোটা বিশ্ব তাকিয়ে আছে আগামী ১৯ জুনের দিকে, যখন এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে পশ্চিম এশিয়ার রাজনৈতিক মানচিত্রে দীর্ঘস্থায়ী শান্তির নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।





