সিন্ধু সভ্যতার অবিচ্ছেদ্য অংশ, ৪,৫০০ বছরের পুরনো ব্রোঞ্জ-নির্মিত বিখ্যাত ‘নৃত্যরত নারী’ বা ‘ড্যান্সিং গার্ল’-এর মূর্তিকে নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। কয়েক দশক ধরে যে মূর্তিটি ইতিহাসের পাঠ্যপুস্তকে স্বাভাবিক ও প্রাণবন্ত ভঙ্গিমায় স্থান পেয়ে এসেছে, এনসিইআরটি (NCERT) প্রকাশিত নবম শ্রেণির নতুন শিল্পকলা বিষয়ক পাঠ্যপুস্তকে তাকে এক ভিন্ন রূপে উপস্থাপন করা হয়েছে। পাঠ্যবইয়ের পাতায় ঐতিহাসিক এই মূর্তির শরীরে পোশাকের আবরণ জুড়ে দেওয়ায় শুরু হয়েছে নানা জল্পনা।
ন্যাশনাল এডুকেশনাল পলিসি (NEP) এবং ন্যাশনাল কারিকুলাম ফ্রেমওয়ার্ক (NCF)-এর আওতায় স্কুলশিক্ষায় শিল্পকলাকে গুরুত্ব দিতে এনসিইআরটি নতুন পাঠ্যক্রম চালু করেছে। এই নতুন বইয়ে দেখা যাচ্ছে, মহেঞ্জোদারোর সেই বিখ্যাত মূর্তিটির রঙ স্বাভাবিকের চেয়ে গাঢ় করা হয়েছে এবং নগ্ন দেহের কিছু অংশ কাপড়ে আবৃত। অথচ ১৯২৬ সালে আবিষ্কৃত মাত্র ১০.৫ সেন্টিমিটার উচ্চতার এই মূল ব্রোঞ্জ মূর্তিটি তার সহজাত নগ্নতা এবং বলিষ্ঠ শৈল্পিক উপস্থাপনার জন্য বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত। ওই মূর্তির শরীরে গয়না বলতে কেবল হাতে একগুচ্ছ চুড়ি এবং গলায় একটি হার ছিল।
নতুন পাঠ্যবইয়ে এই পরিবর্তনের কারণ নিয়ে এনসিইআরটি-র অধিকর্তা দীনেশ শাকলানি কোনো মন্তব্য না করলেও, সংস্থার এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, বিষয়টি টেক্সট বুক ডেভেলপমেন্ট টিমের কাছে পর্যালোচনার জন্য পাঠানো হয়েছে। ওই আধিকারিকের দাবি, এর পেছনে বিশেষ কোনো উদ্দেশ্য নেই। মজার বিষয় হলো, ষষ্ঠ শ্রেণির সমাজবিজ্ঞান পাঠ্যপুস্তকে মূর্তিটিকে তার আসল রূপেই রাখা হয়েছে। তাহলে নবম শ্রেণির বইতে কেন এই রূপান্তর? এই প্রশ্নই এখন ইতিহাসবিদ ও শিক্ষাবিদদের মধ্যে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।
মূর্তিটির উপস্থাপনা নিয়ে বিতর্কের ঘটনা এই প্রথম নয়। এর আগে ২০২৩ সালের মে মাসে ‘ইন্টারন্যাশনাল মিউজিয়াম এক্সপো’-র সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উদ্বোধনের জন্য মূর্তিটির একটি আধুনিক সংস্করণ তৈরি করা হয়েছিল। পাঁচ ফুটের সেই মূর্তিতে উজ্জ্বল গোলাপি রঙের ব্লাউজ ও অফ-হোয়াইট ওয়েস্টকোট পরানো হয়েছিল, যা নিয়ে সে সময় প্রত্নতাত্ত্বিকরা তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। ঐতিহাসিকরা মনে করেন, কোনো প্রত্নসামগ্রীর মূল সত্তাকে বদলে দেওয়া ঐতিহ্যের অবমাননার শামিল। বর্তমান বিতর্কের জল কতদূর গড়ায়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে ওয়াকিবহাল মহল।





