ফ্রেডি মার্কারির রেকর্ড ধূলিসাৎ! বক্স অফিসে নতুন ইতিহাস গড়ল মাইকেল জ্যাকসনের বায়োপিক ‘মাইকেল’

পপ সম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের বর্ণময় জীবন নিয়ে নির্মিত বায়োপিক ‘মাইকেল’ মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে বক্স অফিসে রীতিমতো সুনামি তুলেছে। পরিচালক আঁতোয়ান ফুকা পরিচালিত এবং মাইকেলের ভাগ্নে জাফর জ্যাকসন অভিনীত এই মিউজিক্যাল ড্রামাটি মুক্তির পর সমালোচকদের একাংশ বিতর্ক এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগ তুললেও, দর্শক হৃদয়ে এটি অপ্রতিদ্বন্দ্বী। দিনের পর দিন রেকর্ড ভাঙার নেশায় মত্ত ‘মাইকেল’ এবার ছাড়িয়ে গেল সর্বকালের অন্যতম জনপ্রিয় মিউজিক্যাল বায়োপিক ‘বোহেমিয়ান র‍্যাপসোডি’-কে।

মুক্তি পাওয়ার পর ৫০ দিন অতিবাহিত হয়েছে, আর এরই মধ্যে ছবিটি গড়েছে এক ঐতিহাসিক রেকর্ড। ফ্রেডি মার্কারির জীবনভিত্তিক ছবি ‘বোহেমিয়ান র‍্যাপসোডি’ এতদিন এই তালিকায় শীর্ষে ছিল, যার বিশ্বব্যাপী মোট আয় ছিল ৯১০.৯ মিলিয়ন ডলার। সেই রেকর্ড ভেঙে দিয়ে ‘মাইকেল’ এখন ৯১১ মিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। ভারতীয় মুদ্রায় এই আয়ের পরিমাণ প্রায় ৮৬৬৪ কোটি টাকা। আশ্চর্যজনকভাবে, এই দুটি সফল চলচ্চিত্রেরই প্রযোজক গ্রাহাম কিং, যা চলচ্চিত্র মহলে এক বিরল নজির।

তবে এখানেই থামছে না ‘মাইকেল’-এর লক্ষ্য। এখন প্রশ্ন—সর্বকালের সেরা বায়োপিকের মুকুট কি পাবে এই ছবি? এই মুহূর্তে সেই রেকর্ডের শীর্ষে অবস্থান করছে ক্রিস্টোফার নোলানের কালজয়ী সিনেমা ‘ওপেনহাইমার’। ২০২৩ সালে মুক্তি পাওয়া পারমাণবিক বোমার জনক জে. রবার্ট ওপেনহাইমারের জীবনের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত এই ছবিটি বিশ্বব্যাপী ৯৭৫ মিলিয়ন ডলার আয় করেছিল। ‘মাইকেল’-এর বর্তমান সাফল্যের গতিধারা দেখে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ‘ওপেনহাইমার’-এর এই মাইলফলক স্পর্শ করা এখন সময়ের অপেক্ষা মাত্র।

বক্স অফিসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ‘মাইকেল’ খুব দ্রুত বিলিয়ন-ডলার ক্লাবে প্রবেশের দিকে এগিয়ে চলেছে। এলভিস প্রিসলির জীবনীভিত্তিক ছবি ‘এলভিস’-এর রেকর্ড আগেই ভেঙেছে মাইকেল। চলচ্চিত্রটি প্রেক্ষাগৃহ থেকে বিদায় নেওয়ার আগেই ১ বিলিয়ন ডলারের আয়ের গণ্ডি পেরিয়ে ‘ওপেনহাইমার’-এর সিংহাসন কাঁপিয়ে দিতে পারে বলে জোর জল্পনা চলছে। পপ সম্রাটের প্রতি বিশ্বজুড়ে ভক্তদের যে অটুট ভালোবাসা, তা আবারও প্রমাণিত হলো এই বায়োপিকের অভূতপূর্ব সাফল্যে। সমালোচকদের নেতিবাচক মন্তব্যকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে মাইকেল জ্যাকসনের এই বায়োপিকটি এখন বিশ্ব চলচ্চিত্রের ইতিহাসের পাতায় নতুন অধ্যায় যোগ করছে। এখন দেখার বিষয়, বিলিয়ন-ডলার ক্লাবের সদস্য হিসেবে মাইকেল কবে নাম লেখায়।