মণিকরণ যাওয়ার পথে মৃত্যুমিছিল! নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পর্যটকবোঝাই গাড়ি, হতভাগ্য পরিবারের করুণ পরিণতি

হিমাচল প্রদেশের মণিকরণ উপত্যকার সৌন্দর্য উপভোগ করতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত প্রাণ গেল এক পরিবারের দুই সদস্যের। পাঞ্জাব থেকে কুল্লু ভ্রমণে আসা একটি পর্যটকবোঝাই গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রায় ৪০০ ফুট গভীর খাদে পড়ে যাওয়ায় শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়েছে এক ব্যক্তির এবং হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে মৃত্যু হয়েছে তাঁর মেয়ের। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন পরিবারের অন্য সদস্যসহ আরও তিনজন।
ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, পাঞ্জাবের জলন্ধর থেকে একটি পরিবারের সদস্যরা গাড়িতে করে মণিকরণ যাচ্ছিলেন। পাহাড়ি রাস্তার দুর্গম বাঁকে গাড়িটি আচমকা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তা থেকে ছিটকে সরাসরি খাদে পড়ে যায়। গাড়িটি এত গভীর খাদে পড়ে যে সেটি দুমড়ে-মুচড়ে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। যাত্রীরা গাড়ির ভেতরেই আটকে পড়েন। এই ভয়াবহ দৃশ্য দেখে স্থানীয় গ্রামবাসীরা তৎক্ষণাৎ উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। দুর্গম খাদের গভীরতা ও প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে উদ্ধারকার্য চালানো ছিল অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। বহু চেষ্টার পর স্থানীয়রা আটকে থাকা যাত্রীদের উদ্ধার করে রাস্তার ওপরে নিয়ে আসেন। এরপর অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে দ্রুত তাঁদের হাসপাতালে পাঠানো হয়।
মৃতদের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাঁরা হলেন জলন্ধরের বুদাজনগর শর্মা মান্ডি এলাকার বাসিন্দা ৪৩ বছর বয়সী পারভিন্দর দেওয়ান এবং তাঁর ১৯ বছর বয়সী কন্যা নিধি দেওয়ান। ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন পারভিন্দরের স্ত্রী রিতু দেওয়ান (৪২), ছেলে আদিত্য দেওয়ান (১৭) এবং কাপুরথালার হনুমান মন্দির এলাকার বাসিন্দা ৬ বছর বয়সী মানব কাশ্যপ। প্রাথমিক চিকিৎসার পর আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তবে আঘাতের তীব্রতা বেশি থাকায় দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নেরচৌক মেডিকেল কলেজে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। বর্তমানে তাঁদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়েই স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনিক দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। মণিকরণ ও কুল্লু পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে। প্রাথমিক অনুমান, পাহাড়ি পথে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলার কারণেই এই অঘটন ঘটেছে। তবে গাড়িটির যান্ত্রিক কোনো ত্রুটি ছিল কি না বা চালকের কোনো অসতর্কতা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। পর্যটন মরসুমে এই ধরনের দুর্ঘটনা পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। মৃতদেহগুলি ময়নাতদন্তের পর পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এই ঘটনায় পুরো এলাকা শোকস্তব্ধ।