ভুয়া ব্রিগেডিয়ার আরিয়ান! এনএসজি কমান্ডো নিয়ে ঘুরে বেড়াত একুশের তরুণ, ধরা পড়ল সেনার জালে

উত্তরপ্রদেশের শাহজাহানপুর সামরিক ছাউনিতে ঘটে গেল এক অবিশ্বাস্য ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা। দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে নিজেকে সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার আরিয়ান ভার্মা হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসা একুশ বছরের এক তরুণ শেষ পর্যন্ত ধরা পড়লেন সেনা গোয়েন্দাদের জালে। সেনাবাহিনীর উর্দি, এনএসজি কমান্ডো সেজে বাউন্সার এবং বিলাসবহুল গাড়িতে চড়ে অবাধে ঘুরে বেড়ানো এই তরুণের কর্মকাণ্ডে হতবাক গোটা প্রশাসন।
শাহজাহানপুরের দুর্গা এনক্লেভ কলোনির বাসিন্দা আরিয়ান ভার্মা আসলে ছিলেন এক সাধারণ শিক্ষার্থী। এনইইটি (NEET) পরীক্ষায় দু’বার ব্যর্থ হওয়ার পর চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্নভঙ্গ হয় তাঁর। পরিবারকে খুশি করতে ও সমাজে নিজের ‘ভিত্তি’ তৈরি করতে তিনি বেছে নেন এক ঝুঁকিপূর্ণ পথ। বাড়ি গিয়ে জানিয়েছিলেন, তিনি সেনাবাহিনীতে নির্বাচিত হয়েছেন এবং ভারতের ইতিহাসের ‘সবচেয়ে কমবয়সী ব্রিগেডিয়ার’ হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন। তাঁর পরিবারের সদস্যরাও তাঁর এই মিথ্যে গল্পকে সত্যি বলে মেনে নিয়েছিলেন।
আরিয়ানের প্রতারণার কৌশল ছিল অত্যন্ত সুনিপুণ। একটি টাটা হ্যারিয়ার এসইউভি ভাড়া করে তাতে সেনা ব্রিগেডিয়ারের ‘এক-তারকা’ প্লেট এবং সেনা সদর দপ্তরের পতাকা লাগিয়ে ঘুরতেন তিনি। সঙ্গে রাখতেন দুজন বাউন্সারকে, যাদের কালো পোশাক পরিয়ে এনএসজি কমান্ডো হিসেবে পরিচয় দিতেন। এই ছদ্মবেশে তিনি বিভিন্ন স্কুল-কলেজে গিয়ে মোটিভেশনাল স্পিচ দিতেন এবং ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর ক্যারিয়ার নিয়ে আলোচনা করতেন। কেউ তাঁর পরিচয় নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করলে তিনি নিজের ‘প্রতিভার’ দোহাই দিয়ে এড়িয়ে যেতেন।
তবে তাঁর এই অভিনয় বেশিদিন টেকেনি। সেনাবাহিনীর প্রাক্তন কর্মীরা তাঁর হাবভাব এবং বয়সে এত বড় পদ পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। প্রাক্তন সেনা সদস্য সতীশ সিং চৌহান ও সুদেশ মিশ্র তাঁকে শহীদ সংগ্রহালয়ে এক ছাত্র সেশনে আমন্ত্রণ জানান। আসলে এটি ছিল সেনা গোয়েন্দাদের পাতা একটি সুনিপুণ ফাঁদ। এপ্রিল মাস থেকেই আরিয়ানের ওপর নজর রাখছিল গোয়েন্দা বিভাগ। শুক্রবার সকালে পূর্ণ সামরিক পোশাকে ও দুই ‘কমান্ডো’র সাথে ছাউনিতে প্রবেশ করতেই আরিয়ানকে আটক করা হয়।
তল্লাশিতে তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে জাল সেনা আইডি কার্ড, এএফএমসি (AFMC) আইডি, একটি ডামি পিস্তল এবং সেনাবাহিনীর বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম। সেনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আপাতত কোনো আর্থিক প্রতারণার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে কেন তিনি এমন ঝুঁকিপূর্ণ পথ বেছে নিয়েছিলেন এবং এর পেছনে কোনো গভীর ষড়যন্ত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে আরিয়ান ও তাঁর দুই সঙ্গীকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ ও সেনা গোয়েন্দারা।