‘বুকে ব্যথা’ নিয়ে কুণালের তোপ! রাজ্যসভার মডেল মেনে ইস্তফার দাবি বিদ্রোহীদের কাছে

রাজ্য রাজনীতিতে এখন উত্তাপের পারদ তুঙ্গে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে যখন রাজ্য রাজনীতি তোলপাড়, ঠিক সেই মুহূর্তে তৃণমূল কংগ্রেস নেতা কুণাল ঘোষ সরাসরি বিজেপিকে নিশানা করলেন। সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কুণাল ঘোষ অভিযোগ করেন, বিজেপি সরকার রাজ্যে পরিকল্পিতভাবে ভয়ের পরিবেশ এবং হুমকির আবহ তৈরির চেষ্টা করছে।
কুণাল ঘোষের মতে, নির্বাচনী প্রচারের সময় বিজেপির শীর্ষস্থানীয় নেতারা যে ধরনের উস্কানিমূলক মন্তব্য করেছিলেন, তার বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। তিনি বলেন, “নির্বাচনের আগে বিজেপির বড় নেতারা এখানে এসে যে ‘ডায়ালগবাজি’ করেছিলেন, সেগুলোর দিকেও নজর দেওয়া দরকার। এখন ওরা ক্ষমতায় রয়েছে, তাই ক্ষমতার অপব্যবহার করে ভয়ের বাতাবরণ তৈরির চেষ্টা করছে।”
তৃণমূলের অন্দরে বিদ্রোহের আঁচ ক্রমশ বাড়ছে। ১৯ জন দলত্যাগী সাংসদ লোকসভার স্পিকারের দপ্তরে নিজেদের নাম জমা দেওয়ায় দলের অন্দরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই তালিকায় রয়েছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়, জুন মালিয়া, দীপক অধিকারী, ইউসুফ পাঠান এবং সায়নী ঘোষের মতো হেভিওয়েট নেতারা। এ বিষয়ে কুণাল ঘোষ তীব্র কটাক্ষের সুরে বলেন, “এটা তো মেডিকেল সায়েন্সের বিষয়! হঠাৎ করে একসঙ্গে এতজন সাংসদের ‘বুকে ব্যথা’ কেন শুরু হলো? তাদের রাজ্যসভার মডেল অনুসরণ করা উচিত।” তিনি উদাহরণ হিসেবে জহর সরকার, সুখেন্দু শেখর রায় এবং সুস্মিতা দেবের পদত্যাগের কথা উল্লেখ করে বলেন, তাঁরা যদি তৃণমূলের প্রতীকে জয়ী হয়ে থাকেন, তবে এখন কেন নিজেদের সদস্যপদ ধরে রাখতে চাইছেন? তাঁদের নৈতিকভাবে পদত্যাগ করা উচিত।
অন্যদিকে, তৃণমূলের প্রায় ৫৮ জন বিধায়ক বহিষ্কৃত নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে সমর্থন জানিয়ে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় তাঁকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে নির্বাচিত করেছেন। এই বিদ্রোহী গোষ্ঠী নিজেদেরই ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে দাবি করায় দলের অন্দরের লড়াই এখন প্রকাশ্যে। তবে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে সিআইডি হানার বিষয়টিকে নিয়ে কোনো বাড়তি মন্তব্য করতে চাননি কুণাল। তিনি সাফ জানান, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য যথেষ্ট সক্ষম।
কুণাল ঘোষ তৃণমূল ও কংগ্রেসের মিশে যাওয়ার সম্ভাবনাকেও পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “তৃণমূল ও কংগ্রেস দুটি আলাদা সত্তা। ‘ইন্ডিয়া’ জোটকে শক্তিশালী করতে সব দল একসঙ্গে কাজ করলেও, দুটি দলের নিজস্ব রাজনৈতিক মতাদর্শ রয়েছে।”
বর্তমানে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যেভাবে ঘোলাটে হচ্ছে, তাতে কুণাল ঘোষের এই মন্তব্য তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংকটকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। বিরোধী শিবিরও এই সুযোগ হাতছাড়া করতে নারাজ। এখন দেখার বিষয়, আগামী দিনে এই বিদ্রোহ কীভাবে সামাল দেয় তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব।