ভারতের আকাশ হবে আরও শক্তিশালী? রাশিয়ার সু-৫৭ যুদ্ধবিমান নিয়ে ঐতিহাসিক প্রস্তাব!

ভারতের আকাশসীমা সুরক্ষায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে চলেছে। সম্প্রতি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ভারতের কাছে পঞ্চম প্রজন্মের স্টিলথ যুদ্ধবিমান ‘সু-৫৭’ (Su-57)-এর একটি বিশেষ দুই-আসনের সংস্করণ যৌথভাবে উৎপাদনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছেন। শুধু বিমান সরবরাহ নয়, প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে ভারতকে দীর্ঘমেয়াদী সামরিক সক্ষমতা অর্জনে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে মস্কো। সেন্ট পিটার্সবার্গ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামে এই প্রস্তাব পুনর্ব্যক্ত করে রাশিয়া ভারতের সাথে এক গভীর কৌশলগত সামরিক সম্পর্কের ইঙ্গিত দিল।

মার্কিন ডেটাবেসের তথ্য অনুযায়ী, সু-৫৭ একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ‘এয়ার-সুপিরিওরিটি’ ও ‘স্ট্রাইক ফাইটার’। এর স্টিলথ বৈশিষ্ট্য, অভ্যন্তরীণ অস্ত্র ভাণ্ডার, অত্যাধুনিক সেন্সর ফিউশন এবং AESA রাডার একে আকাশে অজেয় করে তোলে। এই বিমানটি ‘ম্যাক ২’ গতিতে সুপারক্রুজ করতে সক্ষম এবং আফটারবার্নার ছাড়াই সুপারসনিক গতিতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে পারে। এর যুদ্ধকালীন পাল্লা ১,৫০০ কিলোমিটারের বেশি, যা ভারতের দীর্ঘকালীন নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত কার্যকর। এর দুই-আসনের সংস্করণে অতিরিক্ত ক্রু সদস্য দূরপাল্লার অভিযানে ‘মিশন কমান্ডার’ হিসেবে কাজ করতে পারেন, যা বিশেষ করে ‘ওখোটনিক’ (Okhotnik) ড্রোন পরিচালনার ক্ষেত্রে যুগান্তকারী।

এই প্রস্তাবটি ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার কারণ হলো সীমান্তের সমীকরণ। পাকিস্তান সম্প্রতি চীনা জে-৩৫ (J-35) সংগ্রহের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং চীন ভারতের হিমালয় সীমান্তের খুব কাছে তিব্বতের শিগাৎসে ঘাঁটিতে জে-২০ (J-20) মোতায়েন করেছে। সিকিম ও শিলিগুড়ি করিডোর থেকে মাত্র ১৬০ কিলোমিটার দূরে এই অত্যাধুনিক চীনা বিমানের উপস্থিতি ভারতের জন্য একটি বড় মাথাব্যথা। এই প্রেক্ষাপটে সু-৫৭ ভারতের আকাশ সুরক্ষায় এক শক্তিশালী ঢাল হতে পারে।

তবে রাশিয়া কি সময়মতো বিমান সরবরাহ করতে পারবে? এটি এখন কোটি টাকার প্রশ্ন। ‘দ্য ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট’ (TNI)-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে রাশিয়ার কাছে মাত্র ৩২টি সু-৫৭ বিমান রয়েছে, যা তাদের ২০২৭-২৮ সালের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অনেক কম। অর্থায়ন ও সরবরাহ শৃঙ্খলের সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার চাপ রাশিয়ার উৎপাদন ক্ষমতাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। প্রতিটি বিমানের মূল্য প্রায় ১০ কোটি ডলার হওয়ায় রাশিয়া এখন ভারতের মতো শক্তিশালী অংশীদার খুঁজছে, যাতে খরচের বোঝা ভাগ করে নেওয়া যায়।

ভারতের জন্য সু-৫৭ দ্রুত পঞ্চম প্রজন্মের সক্ষমতা অর্জনের এক দারুণ সুযোগ হতে পারে। তবে এক্ষেত্রে প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো রাশিয়ার উৎপাদন সক্ষমতার নির্ভরযোগ্যতা। ভারত যে বিশাল সংখ্যক যুদ্ধবিমান চাইছে, রাশিয়া কি তা সময়মতো সরবরাহ করতে পারবে? এছাড়া, যৌথ উৎপাদনের এই পথ ভারতের ‘আত্মনির্ভর ভারত’ ও নিজস্ব সামরিক প্রযুক্তির দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যের সাথে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে, তা নিয়ে নীতি-নির্ধারকদের সতর্কতার সঙ্গে ভাবতে হবে। একদিকে নিরাপত্তার তাগিদ, অন্যদিকে সরবরাহের নিশ্চয়তা—এই সমীকরণের ওপরই নির্ভর করছে ভারত ও রাশিয়ার এই সম্ভাব্য মহাজোটের ভবিষ্যৎ।