পর্নোগ্রাফিক অ্যাপের এক ক্লিকেই সাফ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট! মারাত্মক জালিয়াতি চক্র নিয়ে চোখ কপালে তোলা সতর্কতা কেন্দ্রের

 

স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের জন্য অত্যন্ত আতঙ্কজনক এবং জরুরি সতর্কবার্তা জারি করল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অধীনস্থ ‘ইন্ডিয়ান সাইবার ক্রাইম কোঅর্ডিনেশন সেন্টার’ (I4C)। পর্নোগ্রাফিক অ্যাপ এবং চটকদার বিজ্ঞাপনের আড়ালে অ্যান্ড্রয়েড ফোনে আড়ি পেতে ব্যক্তিগত তথ্য চুরির এক ভয়ঙ্কর সাইবার প্রতারণা চক্রের সন্ধান পেয়েছে কেন্দ্রের ‘ন্যাশনাল সাইবারক্রাইম থ্রেট অ্যানালিটিক্স ইউনিট’ (NCTAU)। গত ২৬ অগস্ট জারি করা এক নির্দেশিকায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের সাইবার বিভাগ পরিষ্কার জানিয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় ফাঁদ পেতে ব্যবহারকারীদের ফোনে অত্যন্ত বিপজ্জনক কিছু অ্যান্ড্রয়েড প্যাকেজ কিট বা এপিকে (APK) ফাইল ডাউনলোড করানো হচ্ছে, যার মাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট একেবারে খালি করে দেওয়া হচ্ছে।

যে অ্যাপগুলির থেকে মারাত্মক ঝুঁকি রয়েছে:
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের প্রকাশিত সতর্কবার্তায় বিশেষ কিছু অ্যাপের নাম উল্লেখ করে সেগুলি থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এগুলি হলো—

নাইট প্লে (Night Play)

রিলুপ (Reloop)

কিসস (Kyss)

ভিমো (Vimo)

রিভো (Rivo)

নেক্সো (Nexo)

ভিক্সা (Vixa)
এছাড়াও এই সমস্ত নামের সঙ্গে হুবহু মিল থাকা একাধিক ভুয়ো ও ক্ষতিকারক অ্যাপ বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে অবাধে ছড়িয়ে রয়েছে।

কীভাবে ফাঁদ পাতে এই হ্যাকিং চক্র?
১. বিজ্ঞাপনের প্রলোভন: সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্রাউজ করার সময় পর্নোগ্রাফিক কনটেন্টের লোভনীয় বিজ্ঞাপন দেখিয়ে ইউজারদের একটি নির্দিষ্ট লিঙ্কে ক্লিক করতে বাধ্য করা হয়।
২. এপিকে ডাউনলোড: গুগল প্লে স্টোরের বাইরে থেকে থার্ড-পার্টি ওয়েবসাইট বা সোর্স মারফত ফোনে ক্ষতিকারক এপিকে (APK) ফাইল ইনস্টল করানো হয়।
৩. অ্যাক্সেসিবিলিটি পারমিশন চুরি: অ্যাপটি ফোনে ইনস্টল হওয়ার পর সুকৌশলে ইউজারের কাছ থেকে ‘Accessibility Permission’ বা বিশেষ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত অনুমতি কেড়ে নেওয়া হয়। অজান্তে এই অনুমতি দিয়ে দিলেই ফোনের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ চলে যায় হ্যাকারদের রিমোট সার্ভারে।
৪. ওটিপি ও টাকা লোপাট: হ্যাকাররা এই সুবিধার অপব্যবহার করে ব্যাকগ্রাউন্ডে ফোনের স্ক্রিন ট্র্যাক করা, এসএমএস পড়া, এবং ব্যাঙ্ক থেকে আসা ওটিপি (OTP) ও পিন (PIN) নিজে থেকেই সংগ্রহ করে অ্যাকাউন্ট থেকে সমস্ত টাকা তুলেও নেয়।
৫. মুক্তির উপায়হীনতা: এই ম্যালওয়্যারযুক্ত অ্যাপগুলি অনেক সময় ফোনে ভুয়ো ভিপিএন (VPN) ইনস্টল করে ইন্টারনেট ট্রাফিক নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। এমনকি সাধারণ উপায়ে ফোন থেকে এগুলি আনইনস্টল করাও অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। তাই এই ধরনের অজানা লিঙ্ক ও অ্যাপ থেকে সব সময় সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে সাইবার বিশেষজ্ঞ মহল।

Pratik Saha
  • Pratik Saha