সোনার আংটি থেকে বিয়ের উপহার, বিজয়ের স্বপ্নের প্রকল্প পূরণ করতে কি দেউলিয়া হবে তামিলনাড়ু?

তামিলনাড়ুর রাজনীতি বরাবরই জনমোহিনী বা পপুলিস্ট প্রতিশ্রুতির জন্য পরিচিত। তবে এবার সুপারস্টার বিজয় পরিচালিত ‘তামিলনাড়ু ভেত্রি কাজাগাম’ (টিভিকে) যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা রাজনীতি ছাড়িয়ে অর্থনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ক্ষমতায় আসার পর বিজয় সরকার যদি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে করা প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণ করতে চায়, তবে রাজ্যের কোষাগারে বছরে অন্তত ৩,৩০০ কোটি থেকে ৪,০০০ কোটি টাকার বাড়তি বোঝা চেপে বসতে পারে।

টিভিকে-র প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, প্রতিটি নতুন অতিথির (নবজাতক) জন্য সরকারের পক্ষ থেকে একটি সোনার আংটি উপহার দেওয়া হবে। এছাড়া, মেয়ের বিয়ের সময় অর্থনৈতিকভাবে অনগ্রসর পরিবারগুলোকে ৮ গ্রাম সোনা এবং একটি রেশমি শাড়ি উপহার দেওয়া হবে। প্রথম দর্শনে এটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় মনে হলেও, এর বাস্তব প্রয়োগ করতে গিয়ে সরকারের মাথাব্যথা শুরু হয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তামিলনাড়ুর জনসংখ্যা প্রায় ৭.৭৬ কোটি এবং এখানে জন্মহার তুলনামূলকভাবে কম। ২০২৫ সালে এই রাজ্যে প্রায় ৭৮ লক্ষ শিশুর জন্ম হয়েছে। যদি এই শিশুদের ৬০ শতাংশও অনগ্রসর পরিবারের আওতাভুক্ত হয়, তবে প্রতি বছর প্রায় ৪.৭ লক্ষ শিশুকে আংটি দিতে হবে। একটি ছোট সোনার আংটির দাম গড়ে ৫,০০০ টাকা ধরলে, নবজাতক প্রকল্পের জন্যই বছরে প্রায় ২৩৫ কোটি টাকা ব্যয় হবে।

সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো বিয়ে সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতিটি। রাজ্যে বছরে গড়ে ৪ থেকে ৫ লক্ষ বিয়ে হয়। বিজয়ের দল বার্ষিক ৫ লক্ষ টাকার কম আয়ের পরিবারগুলোর কনেদের ৮ গ্রাম সোনা ও শাড়ি দেওয়ার কথা বলেছে। রাজ্যে অসম আয়ের বণ্টনের কারণে প্রায় ৬০ শতাংশ পরিবার এই সুবিধার যোগ্য বলে বিবেচিত হতে পারে। অর্থাৎ, বছরে প্রায় ২ লক্ষ ৭০ হাজার কনে এই সোনার উপহার পেতে পারে। ২২ ক্যারেট সোনার বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী প্রতি গ্রাম ১৩,৮৩৫ টাকা ধরলে, একজন কনেকে দেওয়া সোনার মূল্য দাঁড়ায় ১,১০,৬৮০ টাকা। এর সঙ্গে ৩,০০০ টাকা মূল্যের শাড়ি যোগ করলে জনপ্রতি খরচ হয় ১,১৩,৬৮০ টাকা। এই হিসাবে শুধুমাত্র বিয়ের উপহারের জন্যই সরকারি কোষাগার থেকে প্রায় ৩,০৭০ কোটি টাকা ব্যয় হবে।

এই দুই প্রকল্পের সম্মিলিত খরচ প্রায় ৩,৩০০ কোটি টাকা অতিক্রম করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সোনার দাম যদি স্থিতিশীল না থাকে বা বাড়তে থাকে, তবে এই খরচের পরিমাণ ৪,০০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। তামিলনাড়ুর মতো রাজ্যের বাজেট এবং কোষাগারের ওপর এই বিপুল আর্থিক বোঝা কি আদৌ বহনযোগ্য? একদিকে জনমোহিনী প্রতিশ্রুতি পূরণ, অন্যদিকে রাজ্যের আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা—সুপারস্টার বিজয়ের জন্য এটি এখন সবথেকে বড় পরীক্ষা।