বন্ধুত্বের সম্পর্ককে কলঙ্কিত করে দেড় লক্ষ টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে এক বন্ধুকে নৃশংসভাবে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হলেন দুই অভিযুক্ত। দীর্ঘ তিন বছর আইনি লড়াইয়ের পর উজ্জয়িনের মহিদপুর তহসিল আদালত এই হত্যাকাণ্ডে দুই অভিযুক্তকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে। এছাড়া, ঘটনায় জড়িত এক নাবালককে কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত: ২০২৩ সালের ১৫ আগস্ট উজ্জয়িনের রাঘবী থানা এলাকার একটি খেত থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় এক ব্যক্তির পচনশীল মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘ তদন্তের পর পুলিশ শনাক্ত করে যে মৃতদেহটি খেড়া খাজুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা নরেন্দ্র রাজপুতের। তদন্তে উঠে আসে, নরেন্দ্র তার বন্ধু সুনীল পারমারকে দেড় লক্ষ টাকা ধার দিয়েছিল। সেই টাকা ফেরত চাইতে গেলেই বিপত্তি ঘটে।
হত্যার নীল-নকশা: পুলিশি জেরায় জানা যায়, টাকা ফেরত দেওয়ার চাপ এড়াতে সুনীল তার আরেক সহযোগী বলরাম ওরফে বাল্লু পরিহার এবং এক নাবালককে নিয়ে হত্যার পরিকল্পনা করে। ২০২৩ সালের ৭ আগস্ট নরেন্দ্রকে প্রলুব্ধ করে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে প্রথমে তাকে তলোয়ার দিয়ে কোপানো হয়। পরে নরেন্দ্র চিৎকার করলে তার মুখ বেঁধে ফেলা হয় এবং একটি জলভর্তি গর্তে ডুবিয়ে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। অপরাধ লুকানোর জন্য তারা মরদেহটিকে পাথর বেঁধে গর্তে পুঁতে রেখেছিল, পরে ৯ আগস্ট সেটি বস্তায় ভরে অন্যত্র ফেলে দেয়।
আদালতের রায়: অতিরিক্ত দায়রা জজ কমলেশ সানোদিয়ার আদালতে দীর্ঘ শুনানির পর সমস্ত প্রমাণ ও কল রেকর্ডের ভিত্তিতে সুনীল পারমার এবং বলরাম পরিহারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে। মামলার সাথে যুক্ত নাবালককে পাঠানো হয়েছে কিশোর সংশোধনাগারে।





