সম্পর্কে ছোটখাটো ভুল বোঝাবুঝি বা সন্দেহ থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু যখন এই সন্দেহ বা খুঁতখুঁজে স্বভাব নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তখন তা ‘রিলেশনশিপ অবসেসিভ কমপালসিভ ডিসঅর্ডার’ বা ROCD-এর রূপ নিতে পারে। মানসিক স্বাস্থ্যের এই সমস্যাটি আধুনিক সময়ের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কী এই রিলেশনশিপ ওসিডি? সহজ কথায়, ওসিডি বা অবসেসিভ কমপালসিভ ডিসঅর্ডার হলো এমন একটি মানসিক অবস্থা যেখানে কোনো নির্দিষ্ট চিন্তা বারবার মনের মধ্যে ঘুরপাক খেতে থাকে। রিলেশনশিপ ওসিডিতে আক্রান্ত ব্যক্তি সারাক্ষণ তার সঙ্গীকে নিয়ে অহেতুক সন্দেহের দোলাচলে ভোগেন। তাদের মনে হতে থাকে—আমার সঙ্গী কি আমার জন্য সঠিক? সে কি আমাকে ধোঁকা দিচ্ছে? অন্য মানুষেরা আমাদের সম্পর্ক নিয়ে কী ভাবছে? এই ধরনের নেতিবাচক চিন্তা থেকে তারা নিজের সম্পর্কেই অপরাধবোধ বা হীনম্মন্যতায় ভোগেন।
ROCD-এর লক্ষণসমূহ:
পারফেকশন খোঁজা: সঙ্গীর মধ্যে অহেতুক নিখুঁত হওয়ার প্রত্যাশা করা এবং সামান্য খুঁত পেলেই তা নিয়ে বড় কোনো সমস্যা তৈরি করা।
অতিরিক্ত সন্দেহের প্রবণতা: সঙ্গীর ফোন চেক করা বা সারাক্ষণ তাদের ওপর নজরদারি করা।
ভালোবাসার পরীক্ষা: বারবার সঙ্গীকে জিজ্ঞেস করা, “তুমি কি আমাকে সত্যিই ভালোবাসো?” বা অহেতুক আশ্বাসের খোঁজে থাকা।
তুলনা করা: নিজের সম্পর্ককে অন্যের সম্পর্কের সঙ্গে সারাক্ষণ তুলনা করা এবং নিজের সম্পর্ককে কম সফল মনে করা।
সন্দেহ কি সব সময় ভুল? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রিলেশনশিপ ওসিডি মানেই যে সব সন্দেহ ভিত্তিহীন, তা কিন্তু নয়। কখনো কখনো সম্পর্কের মধ্যে প্রকৃত সমস্যা (Red Flags) বা সঙ্গীর আচরণের পরিবর্তনের কারণেও সন্দেহ তৈরি হতে পারে। যদি সঙ্গী হঠাৎ নিজেকে গুটিয়ে নিতে শুরু করেন বা বিষয় গোপন করার চেষ্টা করেন, তবে তা উদ্বেগের বিষয়। অনেক সময় ‘গ্যাসলাইটিং’-এর মতো পরিস্থিতির কারণেও মানুষ সন্দেহপ্রবণ হয়ে ওঠে।
কীভাবে মোকাবিলা করবেন?
অপরাধবোধ ঝেড়ে ফেলুন: এই সমস্যায় আক্রান্ত হলে নিজেকে দোষী মনে করবেন না। এটি একটি মানসিক অবস্থা, যার চিকিৎসা সম্ভব।
খোলামেলা আলোচনা: নিজের মনের দ্বিধা ও সন্দেহের কথা সঙ্গীকে স্বচ্ছভাবে জানান। নিজের আবেগকে চেপে রাখলে তা বিষের মতো সম্পর্কে ছড়িয়ে পড়ে।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ: যদি চিন্তার জাল ছিঁড়ে বের হতে না পারেন, তবে অবশ্যই কাপল থেরাপিস্ট বা মনোবিদের পরামর্শ নিন। মনে হালকা করা বা প্রফেশনাল কাউন্সিলিং মানসিক বোঝা অনেকটা কমিয়ে দেয়।
তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া এড়িয়ে চলুন: মাথায় কোনো সন্দেহজনক চিন্তা এলেই সাথে সাথে প্রতিক্রিয়া দেবেন না। একটু সময় নিন, ঠান্ডা মাথায় বিষয়টি নিয়ে ভাবুন।
সম্পর্ক কেবল বিশ্বাসের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। নিজের মনকে শান্ত রেখে এবং স্বচ্ছ আলোচনার মাধ্যমে যেকোনো জটিলতা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। তবে প্রয়োজনে পেশাদার সাহায্য নিতে দ্বিধা করবেন না।





