গত বছর ১২ জুন আহমেদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট এআই-১৭১ বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় ২৬০ জন মানুষের মর্মান্তিক মৃত্যুর এক বছর পূর্ণ হলো। এই শোকাবহ ঘটনার পর তদন্তের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খুললেন কেন্দ্রীয় বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী রামমোহন নাইডু।
তদন্তের হালচাল কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান এবং দায় নির্ধারণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্ব ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে তদন্ত চলছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নিয়মনীতি কঠোরভাবে মেনেই এই তদন্ত পরিচালিত হচ্ছে। রামমোহন নাইডু বলেন, “তদন্তের প্রধান লক্ষ্য হলো এই দুর্ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করা এবং ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেই লক্ষ্যে বিমান চলাচলের নিরাপত্তা ব্যবস্হাকে আরও সুসংহত করা।”
তদন্তে সহায়তার আশ্বাস বোয়িং-এর এই মর্মান্তিক ঘটনার এক বছর পূর্তিতে বিমান প্রস্তুতকারক সংস্থা বোয়িং তাদের গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এএআইবি (AAIB) দ্বারা পরিচালিত তদন্তে তারা পূর্ণ সহযোগিতা করছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ণয় করতে তদন্তকারী দলকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলে আশ্বস্ত করেছে সংস্থাটি। তদন্ত শেষ হওয়ার পরই এর ফলাফলের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বেঁচে ফেরার পর লড়াই দুর্ঘটনাটিতে ২৪২ জন যাত্রী ও ক্রু সদস্যের মধ্যে অবিশ্বাস্যভাবে বেঁচে ফিরেছিলেন কেবল বিশ্বাস কুমার রমেশ। কিন্তু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও সেই ভয়াবহ দিনের স্মৃতি তাকে আজও তাড়া করে বেড়ায়। রমেশ জানান, বেঁচে যাওয়াটাই তার লড়াইয়ের শেষ নয়; অনিদ্রা, উদ্বেগ এবং দুর্ঘটনার দুঃসহ স্মৃতি তাকে প্রতিটি মুহূর্তে বিদ্ধ করে। তিনি এখনও শারীরিক ও মানসিকভাবে দীর্ঘ লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
উল্লেখ্য যে, উড্ডয়নের মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিমানটি বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছিল। সেই ধ্বংসাবশেষে বিমানের যাত্রী ছাড়াও মাটিতে থাকা বহু মানুষ হতাহত হয়েছিলেন। বর্তমানে গোটা দেশ এই তদন্ত প্রতিবেদনের দিকে তাকিয়ে আছে, যাতে ভবিষ্যতে আকাশপথে এমন বিপর্যয়ের ঝুঁকি কমানো সম্ভব হয়।





