তেজাস প্রকল্পে বড় জালিয়াতি! পরীক্ষার রিপোর্ট জাল করার অভিযোগে ব্ল্যাকলিস্টেড সরবরাহকারী সংস্থা

ভারতের গর্বের দেশীয় যুদ্ধবিমান এলসিএ তেজাস এমকে১এ (LCA Tejas Mk1A) কর্মসূচিতে বড়সড় অনিয়মের অভিযোগ উঠল। বিমানের যন্ত্রাংশ সরবরাহকারী হায়দ্রাবাদ-ভিত্তিক সংস্থা ‘টেক অ্যারো ডিভাইসেস’-এর বিরুদ্ধে পরীক্ষার রিপোর্ট জাল করা এবং গুণগত মান লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠায় তাদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করল হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (এইচএএল)। সংস্থাটিকে আপাতত কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

কী অভিযোগ? ২০২২ সালের মার্চ মাস থেকে এইচএএল-এর তেজাস প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিল টেক অ্যারো ডিভাইসেস। এই সময়ের মধ্যে তেজাস বিমানের জন্য প্রয়োজনীয় নাট, বোল্ট এবং ওয়াশারের মতো ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ সরবরাহের জন্য মোট ১৮টি অর্ডার দিয়েছিল এইচএএল। কিন্তু এইচএএল-এর নিয়মিত ও কঠোর গুণমান যাচাই (Quality Control) প্রক্রিয়ার সময় সংস্থাটির জমা দেওয়া নথিপত্রে অসামঞ্জস্য ধরা পড়ে। এরপরই শুরু হয় পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, যা শেষ পর্যন্ত জালিয়াতির ঘটনাটিকে সামনে নিয়ে আসে।

এইচএএল-এর কড়া পদক্ষেপ চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, কোনো সরবরাহকারী সংস্থা অবহেলা বা ভুল তথ্য দিলে তার দায়ভার তাদেরই নিতে হয়। এই নীতি মেনে এইচএএল-এর বেঙ্গালুরু এয়ারক্রাফট ডিভিশন অভিযুক্ত সংস্থাটির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। শুধু এফআইআর দায়েরই নয়, ভবিষ্যতে এইচএএল-এর কোনো প্রকল্পের সঙ্গেই আর যুক্ত থাকতে পারবে না টেক অ্যারো ডিভাইসেস।

তেজাস প্রকল্পের ওপর কি প্রভাব পড়বে? প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই ঘটনায় তেজাস এমকে১এ প্রকল্পের উৎপাদনে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। এইচএএল-এর সরবরাহ চেইন অত্যন্ত সুসংহত এবং তারা কোনো একক সরবরাহকারীর ওপর নির্ভরশীল নয়। বিকল্প উৎস থেকে দ্রুত প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এইচএএল-এর এই পদক্ষেপ একটি স্পষ্ট বার্তা দেয়—দেশের কৌশলগত প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের গুণমান ও নিরাপত্তার সাথে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। তেজাস ভারতীয় বিমান বাহিনীর অন্যতম প্রধান ভরসার জায়গা, তাই এর উৎপাদন প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা এইচএএল-এর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy