আমেরিকার ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসন ইস্যুতে এক অত্যন্ত বিতর্কিত ও কঠোর নীতি গ্রহণ করেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন ইরান, সিরিয়া, আফগানিস্তান ও তুরস্কের শরণার্থী ও নাগরিকদের জোরপূর্বক মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। এই দেশটিতে দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধ, চরম দারিদ্র্য এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা রয়েছে। জানা গেছে, এই তালিকায় এমন দুই ইরানি নারীও রয়েছেন যারা ইরানে ফেরত গেলে নির্যাতনের শিকার হতে পারেন বলে মার্কিন আদালত আগেই স্বীকৃতি দিয়েছিল।
ট্রাম্পের নতুন ‘থার্ড কান্ট্রি’ নির্বাসন নীতি অনুযায়ী, যেসব শরণার্থীকে সরাসরি তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব নয়, তাদের অন্য কোনো তৃতীয় দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এই পরিকল্পনার প্রথম ফ্লাইটে প্রায় ২০ জন শরণার্থীকে রাজধানী বাঙ্গুইতে পাঠানো হতে পারে, যেখানে তাদের অ্যাপার্টমেন্টে রাখা হবে। মার্কিন এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে এই চুক্তির আওতায় কয়েকশ শরণার্থীকে সেখানে স্থানান্তর করা হতে পারে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তাদের মতে, একদিকে আমেরিকা গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের কথা বলে, অন্যদিকে অসহায় শরণার্থীদের এমন এক অস্থিতিশীল দেশে পাঠাচ্ছে যেখানে জীবনের কোনো নিরাপত্তা নেই। উল্লেখ্য, ১৯৬০ সালে ফ্রান্স থেকে স্বাধীন হওয়া মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র ও সংকটক্লিষ্ট দেশ হিসেবে পরিচিত। এই সিদ্ধান্ত শরণার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিয়েছে।





