নীতিন আয়োগের গভর্নিং কাউন্সিলের সাম্প্রতিক বৈঠকে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং জাতীয় স্বার্থে পাঞ্জাবের জন্য ‘বিশেষ রাজ্য’-র (Special Category State) মর্যাদা দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান। পাকিস্তানের সঙ্গে ৫৫৩ কিলোমিটার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমান্ত এবং সীমান্ত সংলগ্ন এলাকাগুলোতে মাদক ও অস্ত্র পাচারের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার কথা উল্লেখ করে তিনি এই জোরালো দাবি জানান।
কেন্দ্রীয় অনুদানে বৈষম্যের অভিযোগ
মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, জাতীয় নিরাপত্তার সম্মুখ সারিতে থাকা সত্ত্বেও পাঞ্জাব কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত। তিনি দাবি করেন, পার্বত্য রাজ্য বা উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর মতো পাঞ্জাবের জন্যও কেন্দ্রীয় প্রকল্পে ৯০:১০ অনুপাত কার্যকর করা হোক। পাশাপাশি, ‘ভাইব্রেন্ট ভিলেজ-২’ প্রকল্পে ২,০০০টিরও বেশি সীমান্ত গ্রাম থাকা সত্ত্বেও মাত্র ১০৭টি গ্রামকে অন্তর্ভুক্ত করায় তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, গত বছর ভয়াবহ বন্যায় রাজ্যের ১২,৯০৫ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, যার যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রয়োজন।
উন্নত ভারতের লক্ষ্যে পাঞ্জাবের অবদান
ভগবন্ত মান দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানান, একটি সুরক্ষিত ও সমৃদ্ধ পাঞ্জাব ছাড়া ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘উন্নত ভারত’ গড়ার স্বপ্ন অধরা থেকে যাবে। কেন্দ্রের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি রাজ্য সরকারের সাম্প্রতিক সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, ‘মুখ্যমন্ত্রীর স্বাস্থ্য প্রকল্প’-এর আওতায় ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস চিকিৎসা এবং ৯৯০টি ‘আম আদমি ক্লিনিক’-এর মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৮৪,০০০ মানুষ বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরিষেবা পাচ্ছেন। এছাড়া, নীতি আয়োগের ‘শিক্ষার গুণগত মান প্রতিবেদন – ২০২৬’-এ পাঞ্জাবের স্কুল শিক্ষা ব্যবস্থা দেশের সেরা হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে।
সেমিকন্ডাক্টর ও মাদকবিরোধী লড়াই
ভবিষ্যতের প্রযুক্তিগত শক্তিতে ভারতকে এগিয়ে নিতে মোহালিকে ‘সেমিকন্ডাক্টর মেগা-ক্লাস্টার’ এবং ‘জাতীয় জ্ঞান ও শিক্ষা কেন্দ্র’ হিসেবে গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেমিকন্ডাক্টর ল্যাবরেটরির আধুনিকীকরণে কেন্দ্রের বরাদ্দ ৪,৫০০ কোটি টাকা ব্যবহারেরও আহ্বান জানান তিনি। অন্যদিকে, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের লড়াইয়ের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, রাজ্যে ৫৪৭টি ক্লিনিক ও ১৮৩টি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের পাশাপাশি ‘স্কুলস এগেইনস্ট ড্রাগস’ কর্মসূচির মাধ্যমে ৮ লক্ষ ছাত্রছাত্রীকে সচেতন করা হচ্ছে। পাঞ্জাবের এই দাবিগুলো কেবল রাজ্যের নয়, বরং দেশের খাদ্য ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার স্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি বৈঠকে উল্লেখ করেন।





