‘ইরানের তেল-গ্যাস আমাদের!’ খার্গ দ্বীপ দখলের চূড়ান্ত হুমকি ট্রাম্পের

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা আবারও তুঙ্গে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুঙ্কারে ইরান এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বিস্ফোরক পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানের খার্গ দ্বীপসহ গুরুত্বপূর্ণ সমস্ত তৈল পরিকাঠামো দখলের পরিকল্পনা করছে আমেরিকা। তাঁর দাবি, ভেনেজুয়েলার মতো ইরানের তেল ও গ্যাসের বাজারও এবার মার্কিন নিয়ন্ত্রণে আসবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া আমেরিকা-ইজরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের ঢেউ আবারও আছড়ে পড়েছে ইরানি ভূখণ্ডে। দীর্ঘ দুই মাস বিরতির পর চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইজরায়েলি মিসাইল হামলায় নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়। ট্রাম্পের নির্দেশে এই হামলা সাময়িক স্তিমিত হলেও, গতকাল রাতে মার্কিন সেনাবাহিনী ইরানের উপকূলীয় অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। ট্রাম্পের ভাষায়, “ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন পুরোপুরি ধুলোয় মিশেছে। তাদের নৌবাহিনী, বায়ুসেনা এবং রাডার সিস্টেম ধ্বংস হয়ে গেছে। এখন আমাদের কাজ কেবল ওই কৌশলগত সম্পদগুলো দখল করা।”

খার্গ দ্বীপ ইরানের অর্থনীতির ‘হৃদপিণ্ড’। পারস্য উপসাগরের এই গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ দিয়েই ইরান তাদের মোট তেল রফতানির ৯০ শতাংশ সম্পন্ন করে। ইরানের মূল ভূখণ্ড থেকে মাত্র ৩৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই দ্বীপটি কৌশলগতভাবে এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে, এখান থেকে পুরো ইরানকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। ট্রাম্পের কথায়, “আমরা চাইলে আগামীকালই ছোট একটি সেনা দল পাঠিয়ে দ্বীপটি দখল করে নিতে পারি। তবে আমি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ চাই না, কিন্তু জাতীয় স্বার্থে সবকিছুই সম্ভব।”

এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ইরানও চুপ করে নেই। মার্কিন আগ্রাসনের জবাবে তেহরান বাহারিন, জর্ডন এবং কুয়েতে অবস্থিত আমেরিকার সেনাঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে। পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে ইরানের রিভল্যুশনারি গার্ডস (IRGC), যারা হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে। স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, কোনো জাহাজ ওই এলাকা দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেই তার ওপর সরাসরি হামলা চালানো হবে।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে ধ্বংস করা এবং তাদের পরমাণু অস্ত্র তৈরির উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে অঙ্কুরেই বিনাশ করা—এই লক্ষ্যেই আমেরিকা মরিয়া। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই আগ্রাসী নীতি কেবল রাজনৈতিক কৌশল নয়, বরং বিশ্ব তেলের বাজারে আমেরিকার আধিপত্য বিস্তারের এক বড় মাস্টারপ্ল্যান। একদিকে ট্রাম্পের অটল অবস্থান, অন্যদিকে ইরানের পাল্টা চ্যালেঞ্জে এখন গোটা বিশ্বের নজর হরমুজ প্রণালীর দিকে। বিশ্ব অর্থনীতিতে তেল সরবরাহের এই প্রধান রুটটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে বড়সড় সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ট্রাম্পের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়েই এখন জল্পনা তুঙ্গে।