শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে বড়সড় ধাক্কা খেল কংগ্রেস। রাজ্যসভা নির্বাচনের জন্য দলের নেত্রী মীনাক্ষী নটরাজনের মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে যে আবেদন করা হয়েছিল, তা সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে প্রধান বিচারপতি নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই বিষয়ে তারা কোনোভাবেই হস্তক্ষেপ করবে না।
কী কারণে বাতিল মনোনয়ন?
নির্বাচনী নিয়ম অনুযায়ী, মনোনয়ন দাখিলের সময় ‘ফর্ম ২৬’ পূরণ করা বাধ্যতামূলক। এই ফর্মে প্রার্থীদের তাদের বিরুদ্ধে থাকা সমস্ত ফৌজদারি মামলার তথ্য হলফনামার মাধ্যমে বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করতে হয়। নিয়ম অনুযায়ী, যে সমস্ত মামলায় অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়েছে বা অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা পড়েছে, তার বাইরেও যাবতীয় তথ্যের উল্লেখ থাকা আবশ্যক। মীনাক্ষী নটরাজনের মনোনয়ন বাতিলের নেপথ্যে এই তথ্যগত ত্রুটি বা অসম্পূর্ণ তথ্য প্রদানকেই মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা রিটার্নিং অফিসার (RO) যথাযথভাবে চিহ্নিত করেছিলেন।
সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ
শুনানি চলাকালীন সুপ্রিম কোর্ট ‘পুন্নু স্বামী বনাম রিটার্নিং অফিসার’ মামলার ঐতিহাসিক নজির উল্লেখ করেছে। আদালত জানায়, নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাওয়ার পর বিচার বিভাগীয় হস্তক্ষেপের সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, একবার নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু হলে কোনো প্রার্থী রিট পিটিশনের মাধ্যমে আদালতে যেতে পারেন না। এই ধরনের বিরোধ নিষ্পত্তির একমাত্র আইনি পথ হলো ‘নির্বাচনী পিটিশন’ (Election Petition), যা নির্বাচন শেষ হওয়ার পর দায়ের করা যায়।
আদালত তাঁর আদেশে বলেছে, “আমরা এই মনোনয়ন বাতিলের বিষয়ে কোনো হস্তক্ষেপ করতে পারি না। আবেদনটি আইনত গ্রহণযোগ্য নয়।” এর ফলে রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হলো।
রাজনৈতিক ও আইনি তাৎপর্য
কংগ্রেস নেত্রীর এই আবেদন খারিজ হওয়ার ফলে রাজ্যসভার দৌড় থেকে তিনি কার্যত ছিটকে গেলেন। আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায় আবারও স্পষ্ট করল যে নির্বাচনী বিধিভঙ্গ বা হলফনামায় ভুল তথ্য প্রদানের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন ও রিটার্নিং অফিসারের ক্ষমতা অপ্রতিদ্বন্দ্বী। নির্বাচন চলাকালীন আদালতের হস্তক্ষেপ না করার নীতি মেনে নিয়ে শীর্ষ আদালত নির্বাচনী স্বায়ত্তশাসনকেই বজায় রাখল। এই রায়ের ফলে ভবিষ্যতে যে কোনো নির্বাচনের ক্ষেত্রে হলফনামা পেশের সময় প্রার্থীদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের বার্তা দিল আদালত।





