অদূর ভবিষ্যতে রোবট আপনার ঘরে চা তৈরি করছে কিংবা নিপুণ হাতে আম কাটছে—এমন দৃশ্য দেখলে অবাক হবেন না। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-চালিত রোবটদের মানুষের মতো দৈনন্দিন কাজ শেখানোর বৈপ্লবিক এক প্রকল্পে যুক্ত হয়েছেন বহু ভারতীয়। আর এই কাজের বিনিময়ে তারা পাচ্ছেন আকর্ষণীয় পারিশ্রমিক। মূলত, মাথায় ক্যামেরা বা স্মার্টফোন বেঁধে মানুষের প্রতিটি নড়াচড়া রেকর্ড করা হচ্ছে, যা ব্যবহৃত হচ্ছে রোবটদের প্রশিক্ষণ দিতে।
চেন্নাইয়ের এক গৃহিণী নিজের রান্নাঘরের কাজকর্ম রেকর্ড করে পাঠাচ্ছেন এআই ডেটা কোম্পানির কাছে। তিনি জানালেন, এক ঘণ্টার ভিডিও ফুটেজের বিনিময়ে তিনি পাচ্ছেন ২৫০ টাকা। তার কথায়, “গৃহকর্মের এই প্রশিক্ষণ দিয়ে টাকা আয় করাটা এক নতুন সুযোগ। কে জানে, হয়তো ভবিষ্যতে আমি নিজেই একটি রোবট কিনে ফেলব!” এই ভিডিওগুলো বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি সংস্থাগুলোর কাছে অত্যন্ত মূল্যবান, কারণ এগুলোর মাধ্যমেই যন্ত্র বাস্তব জগতের মানুষের কাজ শিখছে।
রেকর্ডিং প্রক্রিয়াটি বেশ প্রযুক্তিগত। প্রশিক্ষকরা মাথায় বিশেষ মাউন্ট বা স্মার্টফোন বেঁধে রান্না বা অন্যান্য কাজ করেন। একটি বিশেষ অ্যাপের মাধ্যমে এই ডেটা সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারতে অবস্থিত এআই কোম্পানিগুলোতে পাঠানো হয়। অ্যাপটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিডিওর মান যাচাই করে, যেমন—সঠিকভাবে হাত শনাক্ত হচ্ছে কি না, তা নিয়ে নিয়মিত ফিডব্যাক দেয়। ৫৫ বছর বয়সী বেঙ্গালুরুর এক ফুল বিক্রেতা পন্নি, যিনি দীর্ঘ এক দশক ধরে মালা গাঁথছেন, তিনিও এখন এই এআই প্রশিক্ষণের অংশ। তার মতে, এটি আগামী প্রজন্মের প্রযুক্তিকে আরও উন্নত করবে।
আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে এক বিলিয়নেরও বেশি রোবট ব্যবহৃত হবে। তবে চ্যাটবট বা ইমেজ জেনারেটর তৈরির মতো রোবট বানানো সহজ নয়। কারণ, রোবটকে বাস্তব জগতে কাজ করতে হলে তাকে মানুষের শারীরিক নড়াচড়া হুবহু অনুকরণ করতে হয়। ডেভেলপারদের মতে, ‘ইগোসেন্ট্রিক ডেটা’ বা ফার্স্ট-পার্সন ফুটেজ ব্যবহারের ফলে রোবটরা দ্রুত শিখতে পারছে। প্রশিক্ষকরা বাড়িতে বা বিশেষ স্টুডিওতে হেড-মাউন্টেড ক্যামেরা ও মোশন সেন্সর ব্যবহার করে এই তথ্য সংগ্রহ করছেন। এর ফলে সাধারণ মানুষ এখন ডিজিটাল প্রযুক্তির অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছেন, যা ভবিষ্যতে শিল্প ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে রোবটের ব্যবহারকে আরও সহজ ও কার্যকর করে তুলবে।





