“দীপিকা আমার অনুপ্রেরণা!” ইঁদুরদৌড় ছেড়ে হঠাৎ কেন এমন বললেন কঙ্গনা রানাওয়াত?

বলিউডের ‘কুইন’ কঙ্গনা রানাওয়াত মানেই বিতর্ক আর ঝাঁঝালো মন্তব্যের সমাহার। কিন্তু সম্প্রতি নিজের নতুন ছবি ‘ভারত ভাগ্য বিধাতা’-র প্রচারে এক অন্য কঙ্গনাকে খুঁজে পেলেন দর্শক। ইন্ডাস্ট্রির তথাকথিত রেষারেষির গল্প থেকে বেরিয়ে এসে তিনি মন খুলে প্রশংসা করলেন সমসাময়িক অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোনের। এই মন্তব্য মুহূর্তের মধ্যেই বি-টাউনে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।

বর্তমানে শোবিজের ইঁদুরদৌড়, হিংসা আর নিরাপত্তাহীনতার সংস্কৃতি নিয়ে বরাবরই সরব কঙ্গনা। তিনি স্পষ্টভাবে জানালেন, এই নেতিবাচকতা থেকে তিনি নিজেকে সচেতনভাবে দূরে সরিয়ে রেখেছেন। কঙ্গনার কথায়, “আমি নিজের শর্তে বাঁচতে চেয়েছি। ইন্ডাস্ট্রির তথাকথিত খ্যাতির মোহে নিজেকে হারিয়ে ফেলতে চাইনি। আমার ক্যারিয়ারে উত্থান-পতন থাকুক, কিন্তু মানুষ হিসেবে আমি সবসময় স্বচ্ছ থাকতে চেয়েছি।”

দীপিকা পাড়ুকোনের কাজের ধারা এবং শৃঙ্খলার প্রশংসা করে কঙ্গনা ফিরে গেলেন অতীতে। তিনি জানান, যখন পাহাড়ের এক প্রত্যন্ত এলাকা থেকে মাত্র ১৫-১৬ বছর বয়সে মুম্বাইয়ে এসেছিলেন, তখন কথা বলার আত্মবিশ্বাসও তার ছিল না। কঙ্গনা বলেন, “আমি সবসময় নিজের সমসাময়িকদের থেকে ভালো কিছু শেখার চেষ্টা করেছি। দীপিকাদের মতো তারকাদের স্পোর্টস ব্যাকগ্রাউন্ড ছিল, যা তাদের শরীরচর্চা ও ফিটনেসের প্রতি প্রচণ্ড ডিসিপ্লিনড করে তুলেছিল। আমি সায়েন্স ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে এসেছিলাম, তাই ওদের এই শৃঙ্খলার জায়গাটা আমাকে সবসময় অনুপ্রাণিত করেছে।”

ইন্ডাস্ট্রিতে সফল হওয়ার মূলমন্ত্র হিসেবে কঙ্গনা মনে করেন, হিংসা নয়, বরং পারস্পরিক সম্মান থাকা প্রয়োজন। তার মতে, “কেউ যদি আমার থেকে কম প্রতিভাবান হয়, তাকে আগলে রাখা আমার কর্তব্য। আর কেউ বেশি প্রতিভাবান হলে তার থেকে শেখার মধ্যে কোনো লজ্জা নেই। সুস্থ প্রতিযোগিতাই কাজের মান বাড়ায়, হিংসার বিষাক্ত পরিবেশ কেবল ধ্বংসই ডেকে আনে।”

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, কঙ্গনা দীপিকার সম্প্রতি কর্মক্ষেত্রে ‘৮ ঘণ্টা কাজের দাবি’-কেও পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন। কঙ্গনা বলেন, “একজন মা এবং সফল অভিনেত্রী হিসেবে দীপিকা যে সম্মানটুকু চাইছেন, তা তার প্রাপ্য। নারীদের ওপর সংসার ও কর্মক্ষেত্রের যে দ্বিগুণ চাপ থাকে, তা সামলানো অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। তাই কাজের সময় নির্দিষ্ট হওয়া খুবই জরুরি।” কঙ্গনার এই পরিপক্ব এবং উদার মনোভাবকে স্বাগত জানাচ্ছেন অনুরাগীরা। শিল্পীদের মধ্যে সুস্থ সংহতি যে ভবিষ্যতের সিনেমার জন্য ইতিবাচক, তা আজ আবারও প্রমাণ করলেন এই অভিনেত্রী।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy