টানা ১৫ বছর পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) অন্দরে এখন কার্যত ঝড়ের পূর্বাভাস। বিধায়কদের বিদ্রোহের আঁচ সামলাতে না সামলাতেই লোকসভা ও রাজ্যসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল কার্যত তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে। সূত্র মারফত খবর, দল থেকে বেরিয়ে আসা ২০ জন সাংসদের মধ্যে ১৯ জনই ১৮ মে লোকসভার স্পিকারের কার্যালয়ে একটি পৃথক গোষ্ঠী গঠনের প্রস্তাব জমা দিয়েছেন। এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
বিদ্রোহী সাংসদদের এই তালিকায় সবথেকে চমকপ্রদ নাম হলো তিন মুসলিম সাংসদ—ইউসুফ পাঠান (বহরমপুর), খলিলুর রহমান (জঙ্গিপুর) এবং আবু তাহির খান (মুর্শিদাবাদ)। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই তিন সাংসদ এখন ভারতীয় জনতা পার্টিকে সমর্থন করতে প্রস্তুত। লোকসভায় এই ১৯ জনের বিদ্রোহী দলে রয়েছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়, বাপি হালদার, রচনা ব্যানার্জী, জুন মালিয়া, দেব (দীপক অধিকারী)-সহ প্রভাবশালী সব নেতারা। চিঠিতে কাকলি ঘোষকে চিফ হুইপ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও, ২০ মে টিএমসি কল্যাণ ব্যানার্জীকে নতুন চিফ হুইপ নিযুক্ত করার চেষ্টা করে, যা স্পষ্টতই দলের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার প্রমাণ।
সংসদের নিম্নকক্ষেই শুধু নয়, উচ্চকক্ষ রাজ্যসভাতেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বড় ধাক্কা খেয়েছেন। গত কয়েকদিনে পরপর পদত্যাগ করেছেন রাজ্যসভার তিন সাংসদ—প্রকাশ চিক বরাইক, সুখেন্দু শেখর রায় এবং সুস্মিতা দেব। তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে তীব্র মতপার্থক্যের জেরেই তাঁরা দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে। বিধানসভা নির্বাচনের পরবর্তী সময় থেকেই দলের ভেতরে এই বিদ্রোহের আগুন দাউদাউ করে জ্বলছিল।
বিদ্রোহের এই আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল বিধানসভা থেকেই। গত সপ্তাহে বিধানসভার ৮০ জন তৃণমূল বিধায়কের মধ্যে ৫৮ জনই নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত ব্যানার্জীর নেতৃত্বে আলাদা গোষ্ঠী গঠন করেছেন। বিধানসভায় তারা এখন প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদা পাওয়ার দাবি তুলছে। সব মিলিয়ে, রাজ্য রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের অস্তিত্ব এখন গভীর সংকটের মুখে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একচ্ছত্র আধিপত্যের অবসান ঘটিয়ে দলের সাংসদ ও বিধায়করা যে পথে হাঁটছেন, তা মমতা সরকারের পতনকে ত্বরান্বিত করতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।





