লাইভ ক্যামেরার সামনে মাইক ছুড়ে বেরিয়ে গেলেন ট্রাম্প, কেন রেগে আগুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট?

আমেরিকার মূল ধারার সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈরী সম্পর্ক নতুন কিছু নয়। কিন্তু উইসকনসিনে ‘এনবিসি নিউজ’-এর জনপ্রিয় শো ‘মিট দ্য প্রেস’-এর জন্য দেওয়া একটি এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকার এক নাটকীয় ও নজিরবিহীন মোড় নিল। সঞ্চালিকা ক্রিস্টেন ওয়েলকার যখন ট্রাম্পকে নির্বাচন জালিয়াতির দাবির সপক্ষে প্রমাণ দাবি করেন, তখনই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

সাক্ষাৎকারের শুরুটা হয়েছিল ইরান যুদ্ধ এবং একটি বিশেষ অনুদান তহবিল নিয়ে। কিন্তু আলোচনার এক পর্যায়ে ট্রাম্প হঠাৎ প্রসঙ্গ বদলে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে বিষোদ্গার শুরু করেন। সংবাদমাধ্যমকে ‘অসৎ’ আখ্যা দিয়ে তিনি দাবি করেন যে, বাইডেনের ঘনিষ্ঠরা বহু নির্দোষ মানুষকে কারাবন্দি করেছে।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয় যখন ক্রিস্টেন ওয়েলকার ২০২০ সালের নির্বাচন এবং বর্তমানে ক্যালিফোর্নিয়ার ভোট গণনা নিয়ে ট্রাম্পের করা জালিয়াতির অভিযোগের ভিত্তি জানতে চান। ট্রাম্পের দাবি, ক্যালিফোর্নিয়ায় ভোট শেষ হওয়ার কয়েকদিন পরেও গণনা চলা এক বড় জালিয়াতি। সঞ্চালিকা যখন আইনি নিয়মের কথা উল্লেখ করে এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে তুলে ধরেন, তখন ট্রাম্প মেজাজ হারিয়ে ফেলেন। তিনি চিৎকার করে বলেন, “প্রচুর প্রমাণ আছে। নির্বাচনটি ছিল একটি নোংরা জালিয়াতি।”

তর্ক চলাকালীন ট্রাম্প ‘মিট দ্য প্রেস’সহ এবিসি, সিবিএস এবং সিএনএন-এর মতো বড় মিডিয়া নেটওয়ার্কগুলোকে ‘একতরফা অসৎ’ বলে আক্রমণ করেন। এক পর্যায়ে তিনি ব্যক্তিগত আক্রমণ করে সঞ্চালিকাকে বলেন, “হয় আপনি অসৎ, না হয় আপনি বোকা!” ক্রিস্টেন নিজের সততা প্রমাণের চেষ্টা করলেও ট্রাম্প থামেননি। এরপরই তিনি অকস্মাৎ মাইক খুলে ছুড়ে ফেলেন এবং ইন্টারভিউ থামিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দেন।

সঞ্চালিকার বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও ট্রাম্প অনড় ছিলেন। যাওয়ার আগে সঞ্চালককে উদ্দেশ্য করে তিনি অবজ্ঞার সুরে বলেন, “চলুন এখানেই ইতি টানি। কারণ অনেক হয়েছে। ধন্যবাদ, ডার্লিং।” সেই সঙ্গে তিনি যোগ করেন, যে দেশের সংবাদমাধ্যম এত অসৎ, সেই দেশ কখনও মহান হতে পারে না। এভাবেই এক চরম নাটকীয় মুহূর্তে শেষ হয় ওই সাক্ষাৎকারটি।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy