‘চকলেট সিস্ট’ বা ওভারিয়ান এন্ডোমেট্রিওমা শুনতে মিষ্টি মনে হলেও, এটি নারীদের প্রজনন স্বাস্থ্যের জন্য একটি গুরুতর হুমকি। এন্ডোমেট্রিওসিসের এই জটিল রূপটি মূলত ডিম্বাশয়ে জমে থাকা পুরোনো, গাঢ় রঙের রক্তে গঠিত এক প্রকার সিস্ট। যদিও এগুলো ক্যান্সারযুক্ত নয়, তবুও এগুলো পেলভিক ব্যথা, তীব্র ডিসমেনোরিয়া এবং বন্ধ্যাত্বের মতো ভয়াবহ সমস্যার সৃষ্টি করে।
চিকিৎসা বিজ্ঞানের তথ্যমতে, যখন জরায়ুর ভেতরের টিস্যু ডিম্বাশয়ে বৃদ্ধি পায়, তখন প্রতি মাসে মাসিকের সময় সেগুলো রক্তপাত ঘটায়। কিন্তু সেই রক্ত শরীরের বাইরে বের হতে না পেরে ডিম্বাশয়ের ভেতরেই জমে যায়, যা সময়ের সাথে সাথে চকলেটের মতো ঘন ও গাঢ় হয়ে সিস্টে রূপ নেয়। স্ট্যাটপার্লস-এর ২০২৩ সালের গবেষণায় দেখা গেছে, এটি এন্ডোমেট্রিওসিসের তৃতীয় বা চতুর্থ পর্যায়ের একটি প্রধান লক্ষণ।
নারীরা প্রায়ই একে সাধারণ মাসিকের ব্যথা ভেবে বছরের পর বছর অবহেলা করেন। তবে দীর্ঘস্থায়ী পেলভিক ব্যথা, যৌন মিলনের সময় ব্যথা বা গর্ভধারণে জটিলতা দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। ২০২৫ সালের এক গবেষণায় উঠে এসেছে, সার্জারির মাধ্যমে সিস্ট অপসারণ করলে ব্যথা কমলেও, এটি এএমএইচ (AMH) বা ফার্টিলিটি হরমোনের মাত্রা প্রায় ৩৮% কমিয়ে দিতে পারে। তাই ‘অপেক্ষা ও পর্যবেক্ষণ’, হরমোন থেরাপি কিংবা অস্ত্রোপচার—কোনটি আপনার জন্য সঠিক, তা নির্ধারণে বিশেষজ্ঞের পরামর্শই শেষ কথা। নিজের শরীরকে অবহেলা না করে সচেতনতাই পারে আপনাকে দীর্ঘমেয়াদী যন্ত্রণার হাত থেকে বাঁচাতে।





