বিধানসভা থেকে লোকসভা—চারিদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বিদ্রোহের আঁচ। বিধানসভায় ‘ঋতব্রত মডেল’ আর লোকসভায় ‘কাকলি মডেল’-এর জেরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন দল কার্যত দিশেহারা। একদিকে যখন দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে একের পর এক নেতা-নেত্রী দূরত্ব তৈরি করছেন, তখন এই চরম সঙ্কটের মুহূর্তে দলের সুপ্রিমোর পাশে এসে দাঁড়ালেন বর্ষীয়ান নেতা মদন মিত্র।
বিধানসভায় প্রায় ৬০ জন তৃণমূল বিধায়ক দলীয় নির্দেশ অমান্য করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে গ্রহণ করেছেন এবং স্পিকারকে সেই মর্মে চিঠিও দিয়েছেন। অন্যদিকে, লোকসভাতেও একই চিত্র। কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে ২০ জন সাংসদ নিজেদের আলাদা ব্লক হিসেবে ঘোষণা করেছেন এবং এনডিএ-তে যোগদানের ইঙ্গিত দিয়েছেন। এই ‘অপারেশন লোটাস’-এর ছায়া কলকাতা থেকে দিল্লি—দলের ভিত নাড়িয়ে দিয়েছে।
‘লড়াই সবে শুরু হয়েছে’: মদন মিত্র
এমন টালমাটাল পরিস্থিতিতেও দলের প্রতি নিজের আনুগত্য পুনর্ব্যক্ত করেছেন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র। তিনি বলেন, “প্রত্যেকে নিজের ইচ্ছামতো কাজ করছে ঠিকই, তবে আগামী দিনেই প্রমাণ হয়ে যাবে। দল যখনই কোনো সঙ্কটের মুখে পড়েছে, শেষ পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরই জয় হয়েছে। তিনি এখন বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। আমাদের শুধু অপেক্ষা করে দেখতে হবে। লড়াইটা সবে শুরু হয়েছে।”
একসময়ে সারদা কাণ্ডের পর দলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়লেও, বর্তমান সংকটে মদন মিত্রের এই অবস্থান রাজনৈতিক মহলে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, “আমি সবসময় তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে ছিলাম, ভবিষ্যতেও থাকব। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশেই আছি। তিনি যে সিদ্ধান্তই নেবেন, আমরা তা সমর্থন করব।”
মমতার ঘর বাঁচানোর লড়াই
বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর থেকেই দলের অন্দরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যপদ্ধতি নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে। একদিকে বিধায়কদের বিদ্রোহী হওয়া, অন্যদিকে সাংসদদের আলাদা ব্লক গঠন—সব মিলিয়ে ঘর বাঁচানোই এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের এই অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা রাজ্যের রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলতে পারে? আপনার মতামত জানান কমেন্ট বক্সে।





