সিবিআই তদন্তে বড় ধাক্কা! নকল ওষুধ মাফিয়াকে বাঁচাতে হাওয়ালার মাধ্যমে লেনদেন, গ্রেফতার দিল্লি পুলিশের ইন্সপেক্টর

দেশের অন্যতম বৃহৎ ওষুধ জালিয়াতির ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত পুদুচেরির ৫,০০০ কোটি টাকার নকল ওষুধ কেলেঙ্কারিতে এক চাঞ্চল্যকর ঘুষকাণ্ড প্রকাশ্যে এল। এই বিশাল দুর্নীতি চক্রের তদন্ত করতে গিয়ে সিবিআই দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চের ইন্সপেক্টর প্রদীপ কুমার সিং এবং তার সহযোগী রাজকুমার ওরফে মদনরাজকে গ্রেপ্তার করেছে। সিবিআই-এর এফআইআর ও রিমান্ড নোট থেকে জানা গেছে, এই দুজন অভিযুক্তরা নকল ওষুধ চক্রের মূল হোতা এন. রাজা ওরফে রাজশেখরকে সিবিআই তদন্ত থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিনিময়ে মোটা অঙ্কের ঘুষের কারবার চালাচ্ছিল।
তদন্তকারী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত এন. রাজা সিবিআই-এর একাধিক মামলার তদন্তাধীন ছিলেন। ইন্সপেক্টর প্রদীপ সিং এবং রাজকুমার নিজেদের প্রভাবশালী বলে দাবি করে রাজাকে আশ্বাস দিয়েছিলেন যে, তারা কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কর্মকর্তাদের প্রভাবিত করে মামলা থেকে তাঁকে মুক্ত করবেন। এই অপরাধমূলক চুক্তির জন্য মোট ৩ কোটি টাকা ঘুষ দাবি করা হয়েছিল, যার মধ্যে দেড় কোটি টাকা অগ্রিম দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। এন. রাজা হাওয়ালার মাধ্যমে দিল্লিতে ১ কোটি টাকা পাঠালেও, সিবিআই-এর নজরদারিতে পুরো বিষয়টি ধরা পড়ে।
সিবিআই আদালতকে জানিয়েছে যে, হাওয়ালা চ্যানেলের মাধ্যমে লেনদেন হওয়া এই টাকার মধ্যে ৫০ লক্ষ টাকা প্রভাত নামের এক ব্যক্তির কাছে পৌঁছায় এবং ইন্সপেক্টর প্রদীপ সিং নিজে ২৫ লক্ষ টাকা রেখে দেন। পরবর্তী এক অভিযানে প্রদীপ সিং ও রাজকুমারকে নগদ ২৪.৭০ লক্ষ টাকাসহ গ্রেপ্তার করে সিবিআই। তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে, ১৪ মে অ্যারোসিটিতে এন. রাজা ও রাজকুমারের সঙ্গে একজন ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তার সাক্ষাতের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ওই কর্মকর্তা সিবিআই তদন্তে তাদের অনুকূলে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। বর্তমানে ওই প্রভাবশালী কর্মকর্তাকে শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।
গত ৯ জুন রাউস অ্যাভিনিউ আদালতে অভিযুক্তদের হাজির করা হয়। সিবিআই এই চক্রের সাথে জড়িত অন্যান্য উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের খুঁজে বের করতে এবং ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহের জন্য তাদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়েছিল। আদালত উভয় অভিযুক্তকে পুলিশ হেফাজতে পাঠিয়েছে। যদিও অভিযুক্ত ইন্সপেক্টর প্রদীপ সিং নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেছেন এবং তাঁকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে বলে আদালতে জানিয়েছেন।
পুদুচেরির এই নকল ওষুধ কেলেঙ্কারি দেশের জনস্বাস্থ্যের জন্য এক বড় হুমকি। সিবিআই এখন এই ঘুষের উৎসের সন্ধানে মরিয়া। তদন্তকারী সংস্থাগুলোর মতে, এই চক্রটি শুধুমাত্র ওষুধের জালিয়াতিতেই যুক্ত নয়, বরং তদন্তকে প্রভাবিত করার জন্য তারা সরকারি আমলা ও পুলিশের একটি বিশাল নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিল। এই দুর্নীতিতে আর কারা কারা জড়িত, তা বের করাই এখন সিবিআই-এর প্রধান লক্ষ্য।