মেসিকাণ্ডে বড় ধাক্কা অরূপ বিশ্বাসের! হাইকোর্টের কড়া শর্তে বিপাকে প্রাক্তন মন্ত্রী

কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে বড়সড় আইনি গেরোয় পড়লেন রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। গত বছরের ডিসেম্বরে মেসিকাণ্ডে নিজের গ্রেফতারির আশঙ্কা করে তিনি বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চে রক্ষাকবচের আবেদন জানিয়েছিলেন। আজ সেই মামলার শুনানিতে অরূপ বিশ্বাসকে কোনও সুরক্ষা তো দেওয়া হলোই না, বরং তাঁর ওপর একাধিক কড়া শর্ত আরোপ করল আদালত। এদিন বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, পুলিশ যে সময় ডাকবে, সেই সময়েই প্রাক্তন মন্ত্রীকে হাজিরা দিতে হবে। ৪৮ ঘণ্টা আগে নোটিস দেওয়ার শর্তে তদন্ত চলবে নিজস্ব গতিতে।
শুনানি চলাকালীন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য অত্যন্ত ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, “মেসিকে জড়িয়ে ধরে অরূপ বিশ্বাস দাঁড়িয়ে আছেন, এটা কীভাবে সম্ভব? মেসি কি আপনার বাল্যবন্ধু?” বিচারপতির সংযোজন, “মেসির মতো মহাতারকাকে কাছে পেয়ে অরূপ বিশ্বাস যে আচরণ করেছেন, তাতে আন্তর্জাতিক স্তরে রাজ্যের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। মেসির নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়েছিল এবং হাজার হাজার ভক্তের স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে। দেশের অন্যান্য জায়গায় মেসি গেছেন, কোথাও এমন অব্যবস্থা দেখা যায়নি।”
আদালত এদিন অরূপ বিশ্বাসের ওপর বেশ কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। বিচারপতি নির্দেশ দিয়েছেন যে, আদালতের অনুমতি ছাড়া অরূপ বিশ্বাস রাজ্য ছাড়তে পারবেন না। তাঁকে অবিলম্বে নিজের পাসপোর্ট নিম্ন আদালতে জমা রাখতে হবে। তদন্ত চলাকালীন তিনি কোনও সাক্ষীকে প্রভাবিত বা ভয় দেখাতে পারবেন না বলেও সতর্ক করা হয়েছে। তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিধাননগরের পুলিশ কমিশনারের ওপর। চার সপ্তাহের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত রিপোর্ট আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে আপাতত গ্রেফতারির মতো কড়া পদক্ষেপ করা যাবে না বলে জানিয়েছে আদালত।
এদিন রাজ্যের পক্ষ থেকে তীব্র বিরোধিতা করা হয়। সরকারি আইনজীবীর সওয়াল, অরূপ বিশ্বাস অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তি। তিনি তথ্য প্রমাণ বিকৃত করতে পারেন এবং সাক্ষীদের ভয় দেখাতে পারেন। অভিযোগকারী শতদ্রু দত্তের থেকে তিনি অনেক বেশি শক্তিশালী, তাই কোনোভাবেই তাঁকে রক্ষাকবচ দেওয়া ঠিক হবে না। এর পাল্টা জবাবে অরূপ বিশ্বাসের আইনজীবী দাবি করেন যে, সুরক্ষা নিশ্চিত করলে তাঁর মক্কেল তদন্তে সহযোগিতা করবেন।
বিচারপতি ভট্টাচার্য এও প্রশ্ন তুলেছেন যে, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫-এর ঘটনা নিয়ে ৩০ মে ২০২৬-এ কেন অভিযোগ দায়ের করা হলো? এত বড় ব্যবধান নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করলেও, অরূপ বিশ্বাসের ভূমিকা নিয়ে তিনি যে যথেষ্ট অসন্তুষ্ট, তা এদিনের প্রতিটি মন্তব্যে স্পষ্ট ছিল। এখন দেখার, পুলিশের তলব পেয়ে অরূপ বিশ্বাস তদন্তে কতদূর সহযোগিতা করেন।