তৃণমূলের অন্দরে কি ‘শিন্ডে’ মডেল? দলের রাশ হারালেও প্রতীক কার? কী বলছে আইন?

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এখন বড় প্রশ্ন একটাই—দলের রাশ হাতছাড়া হওয়ার পর মমতা ব্যানার্জি ও অভিষেক ব্যানার্জির হাত থেকে কি এবার তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীক এবং বিপুল সম্পত্তিও চলে যাবে? ভোটের ফল প্রকাশের এক মাসের মধ্যেই রাজ্যের শাসকদলে যে ভাঙন ধরেছে, তা ভারতীয় রাজনীতির সাম্প্রতিক ইতিহাসে নজিরবিহীন।

তৃণমূল কি ভেঙে চুরমার? পরিসংখ্যান বলছে, তৃণমূলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬০ জনই এখন মমতা-বিরোধী শিবিরে। অন্যদিকে, লোকসভায় দলের ৪১ জন সদস্যের মধ্যে ২০ জন সরাসরি বিজেপিকে সমর্থনের কথা জানিয়ে দিয়েছেন। এমনকি বিদ্রোহী বিধায়করা ঋতব্রত ব্যানার্জীকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঘোষণার জন্য স্বাক্ষরও করে ফেলেছেন। সব মিলিয়ে, দলের সিংহভাগ শক্তি এখন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও তাঁর অনুগত শিবিরের হাতে।

শিবসেনার সাথে তুলনা কি প্রাসঙ্গিক? অনেকেই এই পরিস্থিতির সাথে মহারাষ্ট্রে ২০২৩ সালের শিবসেনার ভাঙনের তুলনা টানছেন, যেখানে উদ্ধব ঠাকরের হাত থেকে একনাথ শিন্ডের শিবিরে চলে গিয়েছিল দলের নাম ও প্রতীক। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শিবসেনার সাথে তৃণমূলের ভাঙনের কিছু মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। ভারতে রাজনৈতিক দলের ভাঙন ও প্রতীক নির্ধারণের ক্ষেত্রে কিছু সুনির্দিষ্ট আইন ও নির্বাচন কমিশনের নিয়মাবলি রয়েছে।

আইন কী বলছে? রাজনৈতিক দলের প্রতীক ও সম্পত্তি কার দখলে থাকবে, তা নির্ধারিত হয় মূলত দুটি বিষয়ের ওপর: ১. দলের সংবিধান ও অভ্যন্তরীণ কাঠামো: দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পদাধিকারীদের ক্ষমতা কতটা, তা গুরুত্বপূর্ণ। ২. সাংসদ ও বিধায়কদের সমর্থন (সংখ্যাগরিষ্ঠতা): নির্বাচন কমিশন সাধারণত দেখে দলের সাংগঠনিক স্তরে এবং জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে (বিধায়ক ও সাংসদ) কাদের সমর্থন বেশি।

যদি বিদ্রোহী গোষ্ঠী প্রমাণ করতে পারে যে দলের অধিকাংশ বিধায়ক ও সাংসদ তাদের সঙ্গে আছেন, তবে নির্বাচন কমিশন সেই পক্ষকেই দলের মূল অংশ বলে স্বীকৃতি দিতে পারে। আর যদি স্বীকৃতি মেলে, তবে দলের প্রতীক ও সম্পত্তির অধিকারও নতুন সেই অংশেরই হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

এখন কী হতে পারে? বিদ্রোহী সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ইতিমধ্যেই লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিয়েছে। শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে তাদের এই বৈঠক বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, তৃণমূলের ‘মূল’ পরিচয় নিয়ে আইনি লড়াই এখন সময়ের অপেক্ষা মাত্র।

মমতা ব্যানার্জি কি কোনোভাবে দলের দখল ধরে রাখতে পারবেন, নাকি শিবসেনার মতোই ‘তৃণমূল’ নাম ও প্রতীক চলে যাবে বিদ্রোহীদের হাতে? উত্তরের অপেক্ষায় এখন রাজ্যবাসী।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy