কাশ্মীর এবং লাদাখের মধ্যে সংযোগ স্থাপনে এক মাইলফলক স্পর্শ করল ভারত। মঙ্গলবার জোজিলা টানেল (Zojila Tunnel) প্রকল্পের শেষ ২.৫ মিটার পাথরের অংশ বিস্ফোরণের মাধ্যমে সরিয়ে দুই প্রান্তকে যুক্ত করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রী নিতিন গডকরি, জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ এবং মনোজ সিনহার উপস্থিতিতে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি সম্পন্ন হয়।
প্রকল্পের গুরুত্ব ১৩.১৫৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই টানেলটি বালতাল ও মিনামার্গকে যুক্ত করবে। বর্তমানে প্রবল তুষারপাতের কারণে প্রতি বছর প্রায় ৬ মাস জোজিলা পাস বন্ধ থাকে, যার ফলে লাদাখের সঙ্গে কাশ্মীরের যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এই টানেল চালু হলে পর্যটক এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত তো সহজ হবেই, সেই সঙ্গে ভারতীয় সেনাবাহিনীর কাছে সীমান্ত যোগাযোগ ও রসদ সরবরাহের ক্ষেত্রেও এটি বড় স্বস্তির কারণ হয়ে উঠবে।
চ্যালেঞ্জিং নির্মাণ ও আধুনিক প্রযুক্তি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১১,৫৭৮ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই টানেল বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘ দ্বিমুখী একক-টিউব টানেল হতে চলেছে। ২০২০ সালের অক্টোবর মাসে শুরু হওয়া এই নির্মাণ কাজ ছিল চরম প্রতিকূল। মাইনাস ৩০ ডিগ্রি তাপমাত্রা, তুষারধসের ঝুঁকি এবং হিমালয়ের ভঙ্গুর ভূতাত্ত্বিক গঠনের মোকাবিলা করে এই প্রকল্প এগিয়েছে। এতে ব্যবহৃত হয়েছে অত্যাধুনিক ‘নিউ অস্ট্রিয়ান টানেলিং মেথড’ (NATM), যা টানেলের দেওয়ালকে সর্বোচ্চ সুরক্ষায় শক্তিশালী করে তোলে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রায় ৬,৮০৮ কোটি টাকা ব্যয়ে মেঘা ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড এই প্রকল্পের দায়িত্ব নিয়েছে। প্রকল্পের প্রায় ৬৮ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। যদিও সরকারি লক্ষ্যমাত্রা ২০২৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাস, তবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিতিন গডকরি আশাবাদী যে, নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।
মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ এই সাফল্যকে ঐতিহাসিক বলে অভিহিত করে জানান, এটি শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং লাদাখ ও কাশ্মীরের পর্যটন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে এক নতুন জোয়ার আনবে। স্থানীয়দের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও এই প্রকল্প বিশেষ ভূমিকা রাখছে।





