রাজনৈতিক মহলে এখন একটাই প্রশ্ন—তৃণমূল কংগ্রেসের বর্তমান টালমাটাল পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি ফের কংগ্রেসের দিকে ঝুঁকছেন? নিজের রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে INDIA জোটের মঞ্চকে ঢাল করে তিনি কি পুরনো ঘরে ফেরার পথ প্রশস্ত করছেন? সোমবারের বিরোধী বৈঠকের ছবি ও কংগ্রেস নেতৃত্বের সাম্প্রতিক মন্তব্য এই জল্পনাকে আরও জোরালো করেছে।
মমতা-কংগ্রেস সখ্যতা: নতুন সমীকরণ? সোমবার INDIA জোটের বৈঠকে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বেশ খোশমেজাজে দেখা গেছে। সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে আলিঙ্গন হোক কিংবা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা—মমতার প্রতিটি পদক্ষেপই ইঙ্গিতবাহী। বিশেষ করে, সাংবাদিক সম্মেলনে মল্লিকার্জুন খাড়গের পাশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতি নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের জল্পনা উসকে দিয়েছে।
কংগ্রেসের দরজা কি সত্যিই খোলা? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি সত্যিই কংগ্রেসে ফেরার কথা ভাবেন, তবে প্রদেশ কংগ্রেস তাঁকে কীভাবে গ্রহণ করবে? এই প্রশ্নের উত্তরে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার বেশ কৌশলী অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেন, “কংগ্রেসের আদর্শ ও নীতিকে যারা বিশ্বাস করেন এবং আরএসএস ও বিজেপির স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে লড়তে চান, তাদের জন্য কংগ্রেসের দরজা সবসময় খোলা। রাহুল গান্ধীকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাওয়া যে কেউ আমাদের দলে আসতে পারেন।”
‘ওয়াশিং মেশিন নেই’, শর্ত জুড়ে দিলেন শুভঙ্কর তবে কংগ্রেসের দরজা সবার জন্য অবারিত হলেও, শুভঙ্কর সরকার একটি বড় ‘শর্ত’ জুড়ে দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, যাদের গায়ে দুর্নীতির দাগ নেই, কেবল তারাই কংগ্রেসে আসার যোগ্য। তাঁর কথায়, “আমাদের দলে তাদেরই জায়গা হবে, যাদের ধক আছে। আমাদের কাছে কোনো ‘ওয়াশিং মেশিন’ নেই যে দুর্নীতির দাগ ধুয়ে পরিষ্কার করে দেব। দেশ বাঁচাতে যারা এগিয়ে আসতে চান, তাদের প্রধান সেনাপতি রাহুল গান্ধীই।”
তৃণমূল কি ভাঙনের মুখে? রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন, তৃণমূলের নিচুতলার নেতা-কর্মীরাও ক্রমশ কংগ্রেসের দিকে ঝুঁকছেন। বিধানসভা নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে কোচবিহারের মেখলিগঞ্জ পুরসভার বেশিরভাগ কাউন্সিলরের কংগ্রেসে যোগ দেওয়া তারই ইঙ্গিত। সূত্রের খবর, একদা তৃণমূলের হাত ধরে বেরিয়ে যাওয়া নেতা-কর্মীদের ফিরিয়ে আনতে এখন বিশেষ রণকৌশল নিচ্ছে কংগ্রেস।
সব মিলিয়ে, তৃণমূলের অন্দরের অস্থিরতা এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নতুন রাজনৈতিক চাল যে রাজ্য রাজনীতিতে বড় কোনো পরিবর্তনের পূর্বাভাস দিচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য। তবে সেই পথ কংগ্রেসের হাত ধরে কতদূর যাবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।





