দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিংয়ে মাতলা নদীর চরে গড়ে ওঠা ‘চাঁদমুনি সেবাশ্রম’ বর্তমানে রাজ্যের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। জনসেবার আড়ালে সরকারি জমি দখল এবং বৃদ্ধাশ্রমের নামে বেআইনি রিসোর্ট চালানোর অভিযোগে সরগরম এলাকা। এই বিতর্ক ঘিরে একদিকে বিজেপি যেমন বিধ্বংসী আক্রমণ শানাচ্ছে, অন্যদিকে শাসকদল পাল্টা যুক্তি দিয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করার চেষ্টা করছে।
অভিযোগের মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো, মাতলা নদীর তীরে সরকারি জায়গায় যে বৃদ্ধাশ্রমটি গড়ে তোলা হয়েছে, তার আড়ালে রমরমিয়ে চলছে এক বিলাসবহুল রিসোর্ট। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, জনকল্যাণের দোহাই দিয়ে সরকারি জমি জবরদখল করা হয়েছে এবং তা বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। সূত্রের খবর, প্রশাসনিক স্তরে এই বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে আগামী ১৮ জুন শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। প্রশাসনের এই সক্রিয়তা বিতর্কের আগুনে ঘৃতাহুতির কাজ করেছে।
এই গোটা বিষয়টি নিয়ে ক্যানিং পশ্চিমের তৃণমূল বিধায়ক পরেশ রাম দাসের সঙ্গে বিজেপির সরাসরি সংঘাত তৈরি হয়েছে। বিধায়ক সমস্ত অভিযোগ খারিজ করে দাবি করেছেন, “চাঁদমুনি সেবাশ্রম সম্পূর্ণ সরকারি নিয়ম মেনেই তৈরি করা হয়েছে। এখানে কোনো অবৈধ নির্মাণ বা রিসোর্ট পরিচালনার প্রশ্নই ওঠে না।” তিনি আরও বলেন, বিরোধীরা উন্নয়নের পথে বাধা সৃষ্টি করতে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলছে। বিধায়কের দাবি, এটি মানুষের সেবার জন্য একটি প্রকল্প, যার উদ্দেশ্য স্থানীয় অসহায় বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের আশ্রয় দেওয়া।
বিজেপির জেলা নেতৃত্বের পালটা যুক্তি, নদীর চরের মতো পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল এলাকায় এত বড় নির্মাণের অনুমতি কীভাবে মিলল? তাদের অভিযোগ, প্রভাব খাটিয়ে পরিবেশ আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এই রিসোর্ট গড়ে তোলা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, বৃদ্ধাশ্রমের নাম থাকলেও সাধারণের প্রবেশাধিকার সেখানে সীমিত, যা রিসোর্ট হওয়ার সম্ভাবনাকেই জোরালো করছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পঞ্চায়েত ও লোকসভা ভোটের আবহে এই বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। একদিকে যেখানে শাসকদলের জনপ্রতিনিধিরা প্রকল্পের স্বচ্ছতা দাবি করছেন, অন্যদিকে বিজেপি একে ‘দুর্নীতির মডেল’ হিসেবে তুলে ধরছে। প্রশাসন ১৮ জুন যে শুনানির নির্দেশ দিয়েছে, তা এই বিতর্কের নিষ্পত্তি ঘটাবে নাকি নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। সরকারি জমির মালিকানা এবং নির্মাণের বৈধতা নিয়ে এই টানাপোড়েন ক্যানিংয়ের সাধারণ মানুষের মধ্যেও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। প্রশাসনিক শুনানিই এখন একমাত্র পথ, যা থেকে স্পষ্ট হবে মাতলার চরের এই বিতর্কিত নির্মাণের আসল রহস্য।





