নাচ, গান বা কবিতার গণ্ডি পেরিয়ে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রতি এক ভিন্নধর্মী শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করল উত্তর ২৪ পরগনার মিনাখাঁ। ব্লকের নলফা ছয়নী গ্রামে আয়োজিত হলো তাদের ঐতিহ্যবাহী বার্ষিক ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা। ব্রিটিশ আমল থেকে চলে আসা এই লোকসংস্কৃতির উৎসব এবার ৮৯ বছরে পদার্পণ করল।
দেশভাগের আগে যে উৎসবের সূচনা হয়েছিল, আজও তা সমান উদ্দীপনায় প্রাণবন্ত। অশ্বখুরের শব্দ আর দর্শকদের উল্লাসে মিনাখাঁর মাঠ যেন এক উৎসবের রূপ নিয়েছিল। নলফা ছয়নী ঘোড়দৌড় কমিটির সদস্য রেজাউল ইসলাম জানান, অতীতে ২৫ বৈশাখ কবিগুরুর জন্মদিনে এই রেসের আয়োজন হতো। পরবর্তীতে নজরুল জয়ন্তীর সাথে মিল রেখে তা ১১ জ্যৈষ্ঠে স্থানান্তর করা হয়। তবে এবার নজরুল জয়ন্তীতে ঈদের পবিত্র তিথি থাকায় তারিখ সামান্য পরিবর্তন করা হয়েছে।
এ বছর মাঠের ফসল কাটার পর প্রায় তিন কিলোমিটার বিস্তৃত এলাকা জুড়ে তৈরি করা হয়েছিল দৌড়ের ট্র্যাক। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে মোট ৩৬টি ঘোড়া এই রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে অংশ নেয়। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার শেষে বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হয়েছে। প্রথম স্থানাধিকারীকে ৯,০০০ টাকা, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানাধিকারীকে যথাক্রমে ৭,০০০ ও ৫,০০০ টাকা দেওয়া হয়। এছাড়া চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানাধিকারীদের যথাক্রমে ৪,০০০ ও ২,০০০ টাকা এবং অংশগ্রহণকারী বাকি প্রতিযোগীদের ৫৫০ টাকা করে সান্ত্বনা পুরস্কার প্রদান করা হয়।
ঘোড়দৌড়কে কেন্দ্র করে মাঠ প্রাঙ্গণে বসেছিল গ্রামীণ মেলার আসর। হরেক রকমের পসরা আর মেলা চত্বরে মানুষের ভিড় গ্রামীণ অর্থনীতির এক উজ্জ্বল ছবি তুলে ধরেছে। দুই দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনও ছিল দেখার মতো। উদ্যোক্তাদের মতে, গ্রামীণ বাংলার এই প্রাচীন ঐতিহ্য রক্ষা করাই তাদের মূল লক্ষ্য। আধুনিকতার যুগেও পূর্বপুরুষদের এই স্মৃতিকে আঁকড়ে ধরে তারা আগামীর পথে এগিয়ে যেতে চায়। এই বর্ণাঢ্য আয়োজনের সফল সমাপ্তিতে স্থানীয় মানুষ থেকে শুরু করে দূর-দূরান্তের দর্শকদের চোখেমুখে ছিল এক তৃপ্তির ছাপ।





