শ্রাবণী মেলাকে কেন্দ্র করে তারকেশ্বর মন্দির চত্বর এবং সংলগ্ন এলাকায় এখন সাজ সাজ রব। লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীর আগমনকে নির্বিঘ্ন এবং সুশৃঙ্খল করে তোলার লক্ষ্যে হুগলি জেলা পরিষদে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হলেন তারকেশ্বরের বিজেপি বিধায়ক সন্তু পান। মেলার প্রস্তুতি পর্ব, পরিকাঠামোগত উন্নয়ন এবং ভক্তদের সুযোগ-সুবিধা সংক্রান্ত একাধিক বিষয় নিয়ে তিনি জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন।
বৈঠক শেষে বিধায়ক সন্তু পান জানান, শ্রাবণী মেলা শুধুমাত্র একটি উৎসব নয়, এটি লক্ষ লক্ষ মানুষের বিশ্বাসের প্রতীক। প্রতি বছর শ্রাবণ মাসে তারকেশ্বরে যে বিপুল জনসমাগম হয়, তাতে যাতে কোনোভাবেই পুণ্যার্থীদের সমস্যায় পড়তে না হয়, তা নিশ্চিত করাই বর্তমান প্রশাসনের প্রাথমিক লক্ষ্য। তিনি মেলার ব্যবস্থাপনা নিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা জেলা পরিষদের সামনে পেশ করেছেন।
প্রধানত পুণ্যার্থীদের যাতায়াত, পানীয় জলের পর্যাপ্ত জোগান, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উপর জোর দিয়েছেন বিধায়ক। তারকেশ্বর মন্দিরে শিবলিঙ্গে জল ঢালার জন্য দূর-দূরান্ত থেকে আসা ভক্তদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। সেই লাইনে যাতে কোনো বিশৃঙ্খলা তৈরি না হয় এবং বয়স্ক ও শিশুদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা যায়, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং অস্থায়ী চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়েও জেলা পরিষদের আধিকারিকদের বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিধায়ক সন্তু পান বলেন, “তারকেশ্বরের পবিত্র শ্রাবণী মেলায় লক্ষ লক্ষ ভক্তের সমাগম ঘটে। তাদের স্বাচ্ছন্দ্য বজায় রাখা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আমরা চেষ্টা করছি গত বছরের তুলনায় এ বছর আরও উন্নত পরিকাঠামো প্রদান করতে। জেলা পরিষদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে আমরা সমস্ত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব, যাতে পুণ্যার্থীরা একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ পান।”
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মেলার কয়েকদিন আগে থেকেই তারকেশ্বরমুখী রাস্তাগুলোর মেরামতি এবং আলোকসজ্জার কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া যানজট নিয়ন্ত্রণের জন্য ট্রাফিক ব্যবস্থার পুনর্গঠন নিয়েও আলোচনা হয়েছে। সব মিলিয়ে, বিধায়ক সন্তু পানের এই উদ্যোগে তারকেশ্বরের শ্রাবণী মেলার আয়োজন যে এবার আগের তুলনায় অনেক বেশি সুশৃঙ্খল হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য। ভক্তদের জন্য উন্নত ব্যবস্থা গ্রহণ করার এই প্রশাসনিক তৎপরতাকে স্বাগত জানিয়েছেন এলাকাবাসী।





