রাজ্যের প্রশাসনিক সদর দফতর নবান্নে রাজনৈতিক বৈরিতা ছাপিয়ে দেখা মিলল এক ভিন্ন চিত্রের। কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রীর উপস্থিতিতে রাজ্য প্রশাসনের সাথে আয়োজিত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে যোগ দিয়ে তৃণমূল বিধায়ক রথীন ঘোষ এক বার্তা দিলেন—’উন্নয়নের প্রশ্নে কোনো রাজনৈতিক বিভাজন থাকা উচিত নয়।’
বৈঠকের প্রেক্ষাপট: শনিবার নবান্নে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী ও রাজ্য প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্তাদের মধ্যে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকে শাসক দলের বিধায়ক হিসেবে রথীন ঘোষের উপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে বেশ কৌতুহলের জন্ম দিয়েছে। তবে রথীন ঘোষ নিজেই এই উপস্থিতিকে ‘রাজনৈতিক’ তকমা দিতে নারাজ। তাঁর কথায়, “সরকার মানেই আপামর জনসাধারণের সরকার। সাধারণ মানুষের স্বার্থে প্রশাসনিক বৈঠকে অংশ নেওয়া একজন জনপ্রতিনিধির নৈতিক দায়িত্ব।”
রেল ও মেট্রো নিয়ে সুনির্দিষ্ট দাবি: মধ্যমগ্রামের বিধায়ক হিসেবে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘব করাই এই বৈঠকে তাঁর মূল উদ্দেশ্য ছিল। তিনি মূলত দুটি প্রধান বিষয়ে রেল কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন:
নোয়াপাড়া-বিমানবন্দর-বারাসত মেট্রো প্রকল্প: এই মেগা প্রকল্পের কাজ দীর্ঘদিনের জমি জট ও প্রশাসনিক জটিলতায় থমকে আছে। বারাসত ও মধ্যমগ্রামবাসীর লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত এই রুটের কাজ কবে শুরু হবে, তা নিয়ে রেলমন্ত্রীর কাছে তিনি বিস্তারিত জানতে চেয়েছেন।
মধ্যমগ্রাম স্টেশনের আধুনিকীকরণ: ‘অমৃত ভারত স্টেশন’ প্রকল্পের আওতায় স্টেশনটির খোলনলচে বদলে দেওয়ার কথা। অত্যাধুনিক যাত্রী পরিষেবা, চলন্ত সিঁড়ি ও উন্নত পরিকাঠামোর কাজ ঠিক কোন পর্যায়ে রয়েছে এবং কবে সাধারণ মানুষ তা উপভোগ করতে পারবেন, তা নিয়ে তিনি স্বচ্ছ রিপোর্ট চেয়েছেন।
রাজনৈতিক অস্পৃশ্যতার বাইরে উন্নয়ন: রথীন ঘোষের সাফ কথা, কেন্দ্র ও রাজ্য—উভয় সরকারই মানুষের ভোটে নির্বাচিত। তাই পরিকাঠামোগত উন্নয়নে দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে সমন্বয়ের মাধ্যমেই মানুষের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা সম্ভব। শিয়ালদা-বনগাঁ শাখার নিত্যযাত্রীদের নিত্যদিনের দুর্ভোগের কথা মাথায় রেখে তিনি এই যৌথ উদ্যোগকে ত্বরান্বিত করার পক্ষে সওয়াল করেছেন।
প্রশাসনিক এই বৈঠক বুঝিয়ে দিল, রাজ্যের রাজনীতির উত্তপ্ত আবহের মাঝেও জনস্বার্থের প্রশ্নে রাজনৈতিক সৌজন্য ও সমন্বয়ই শেষ পর্যন্ত সমাধানের পথ দেখাতে পারে।
সহযোগী প্রতিবেদন:
ফিরহাদ হাকিমের ইস্তফার পরই কর্পোরেশনকে নোটিশ অগ্নিমিত্রার দপ্তরের।
ভাঙড় বিস্ফোরণ মামলায় শওকত মোল্লা এখন ১৪ দিনের NIA হেফাজতে।





