মধ্যপ্রদেশের সাগর জেলা থেকে মাত্র ৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ‘জিন্দা’ গ্রামটি আজ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। ভৌগোলিক পরিচয়ের বাইরেও গ্রামটির নামের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক গা ছমছমে লোককাহিনী। প্রবীণদের মুখে শোনা যায়, বহু দশক আগে গ্রামটি ‘জিন্দ’ নামক এক রহস্যময় অতিপ্রাকৃত সত্তার অভিশাপে জর্জরিত ছিল।
প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, সেই রহস্যময় শক্তির উৎপাতে অতিষ্ঠ হয়ে গ্রামবাসীরা গ্রাম ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন। প্রতিকারের জন্য তাঁরা দ্বারস্থ হন এক তান্ত্রিকের। সেই তান্ত্রিক গ্রামটিকে জনশূন্য করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কথিত আছে, গ্রাম ছাড়ার সময় সেই তান্ত্রিক গ্রামবাসীদের নির্দেশ দিয়েছিলেন, কোনো এক বিশেষ রাতে যদি তাদের গরুর গাড়ির পেরেক বা খুঁটি আপনাআপনি ভেঙে যায়, তবে বুঝতে হবে অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটেছে। অবাক করার মতো হলেও সত্যি, ঠিক সেই রাতেই গাড়ির চাকা অচল হয়ে যায় এবং গ্রাম থেকে অভিশাপ কেটে যায় বলে জনশ্রুতি রয়েছে।
এই ঘটনার পর গ্রামটি আবারও মানুষের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে। স্থানীয়রা দাবি করেন, সেই সময় এই এলাকাটি ‘জীবিতদের গ্রাম’ হিসেবে পরিচিতি পায়, যা কালক্রমে অপভ্রংশ হয়ে ‘জিন্দা’ নামে পরিচিতি লাভ করে। যদিও আধুনিক বিজ্ঞানের যুগে এর কোনো ঐতিহাসিক ভিত্তি নেই, তবুও গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দারা পরম শ্রদ্ধায় এই ঐতিহ্য বহন করে চলেছেন। আজও সাগর জেলার এই গ্রামটি পর্যটকদের কাছে রহস্যের এক অনন্য গন্তব্য।





