“এখন সবে শুরু, গুনতে থাকুন!” শওকত মোল্লার গ্রেফতারিতে বিস্ফোরক দিলীপ ঘোষ

তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লার গ্রেফতারি ঘিরে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। এই ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করলেন বিজেপির প্রবীণ নেতা দিলীপ ঘোষ। শওকতের গ্রেফতারির পর দিলীপ ঘোষের মন্তব্য, “এখন সবে শুরু হয়েছে, এরপর শুধু গুনতে থাকুন।” শুধু তাই নয়, রাজ্যের শাসকদলের আরও নেতা-কর্মীদের নিশানা করে তিনি বলেন, “এখনও দেড় হাজার নেতাকে অবিলম্বে গ্রেফতার করা উচিত, তাঁদের নিজেদের জীবনের স্বার্থেই।”

শওকত মোল্লার বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা যে পদক্ষেপ করেছে, তাকে বিজেপির প্রবীণ নেতা ‘হিমশৈলের চূড়া’ বলেই মনে করছেন। দিলীপ ঘোষের কথায়, দীর্ঘ সময় ধরে এসব নেতারা বিভিন্ন অসামাজিক ও অনৈতিক কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁদের বিরুদ্ধে মানুষের মনে ক্ষোভ ছিল বিস্তর, কিন্তু ভয়ের কারণে কেউ মুখ খোলার সাহস পায়নি। এখন পরিস্থিতির পরিবর্তন হচ্ছে এবং আইনের হাত থেকে এদের নিস্তার নেই বলেই দাবি তাঁর।

তৃণমূলের অন্দরে এখন কার্যত অস্থিরতা চরমে। দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্য শাসকদলের অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি খোলামেলা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেছেন, শাসকদলের অনেক নেতা অবৈধ সুবিধা ভোগ করেছেন, কিন্তু আইন এবার তার নিজস্ব গতিতে কাজ করছে। যে দেড় হাজার নেতার কথা তিনি উল্লেখ করেছেন, তাঁদের গ্রেফতারির দাবি তুলে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, দুর্নীতিমুক্ত বাংলার লক্ষ্যে বিজেপি আর পিছু হটবে না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শওকত মোল্লার মতো প্রভাবশালী নেতার গ্রেফতারি এবং তারপর দিলীপ ঘোষের এই ঝাঁঝালো মন্তব্য তৃণমূল শিবিরে বড়সড় ভাঙনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। শাসকদল অবশ্য এই পুরো ঘটনাকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে অভিহিত করেছে। তবে দিলীপ ঘোষের দাবি, রাজ্যে পরিবর্তনের হাওয়া বইছে এবং আইন ভাঙার বিচার এখন সময়ের অপেক্ষা মাত্র। শওকত পরবর্তী রাজনৈতিক সমীকরণে কে বা কারা কেন্দ্রীয় সংস্থার রাডারে রয়েছেন, তা নিয়েই এখন জল্পনা তুঙ্গে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy