অসংগঠিত ক্ষেত্রের কর্মীদের জন্য বার্ধক্যকালীন আর্থিক নিরাপত্তার কথা ভেবে কেন্দ্রীয় সরকার নিয়ে এসেছে ‘প্রধানমন্ত্রী শ্রম যোগী মান-ধন যোজনা’ (PM-SYM)। স্থায়ী চাকরি নেই এমন মানুষজন যারা হকার, রিকশাচালক, পরিচারিকা বা নির্মাণকর্মী হিসেবে কাজ করেন, তাদের জন্য এই প্রকল্প এক বড় ভরসা।
কী এই প্রকল্প? ২০১৯ সালে চালু হওয়া এই প্রকল্পের মূল মন্ত্র হলো ‘সমপরিমাণ অংশীদারিত্ব’। আপনি প্রতি মাসে যে পরিমাণ প্রিমিয়াম জমা দেবেন, সরকারও ঠিক সমপরিমাণ অর্থ আপনার পেনশনের অ্যাকাউন্টে জমা করবে। ৬০ বছর বয়সের পর থেকে আপনি মাসে ৩,০০০ টাকা করে নিশ্চিত পেনশন পাবেন।
যোগ্যতার মানদণ্ড:
পেশা: রিকশাচালক, হকার, গৃহকর্মী, নির্মাণকর্মী, খেতমজুর বা অনুরূপ অসংগঠিত ক্ষেত্রের কর্মী হতে হবে।
বয়স: আবেদনকারীর বয়স হতে হবে ১৮ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে।
আয়: মাসিক আয় ১৫,০০০ টাকা বা তার কম হতে হবে।
শর্ত: আবেদনকারী যেন আয়কর দাতা না হন এবং ইপিএফও (EPFO), ইএসআইসি (ESIC) বা এনপিএস (NPS)-এর মতো অন্য কোনো সরকারি সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের সুবিধা না নেন।
বিনিয়োগের হিসেব: আপনার বয়স অনুযায়ী মাসিক কিস্তি নির্ধারিত হবে। ১৮ বছর বয়সে যোগ দিলে মাসিক প্রিমিয়াম মাত্র ৫৫ টাকা, আর ৪০ বছর বয়সে যোগ দিলে প্রিমিয়াম হবে ২০০ টাকা। একবার নাম নথিভুক্ত করলে ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত এই কিস্তি নিয়মিত জমা দিতে হবে।
বিশেষ সুবিধা:
দম্পতিদের জন্য: স্বামী ও স্ত্রী আলাদাভাবে এই প্রকল্পে যোগ দিলে ৬০ বছর পর প্রতি মাসে মোট ৬,০০০ টাকা পেনশন পাওয়া সম্ভব।
পারিবারিক পেনশন: উপভোক্তার মৃত্যুর পর তাঁর স্বামী বা স্ত্রী আজীবন পেনশনের ৫০ শতাংশ অর্থাৎ মাসে ১,৫০০ টাকা পাবেন।
মাঝপথে বেরিয়ে আসার সুবিধা: বিশেষ কিছু নিয়মের ভিত্তিতে জমা দেওয়া টাকা সুদসহ ফেরত পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
কীভাবে আবেদন করবেন? রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা যায়। আপনার নিকটবর্তী কমন সার্ভিস সেন্টারে (CSC) যোগাযোগ করুন। আবেদনের সময় [আধার কার্ড] এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিবরণ সঙ্গে রাখুন। বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হবে এবং প্রথম কিস্তি নগদে জমা দিয়ে অটো-ডেবিট সুবিধা চালু করা যাবে।
কেন্দ্রীয় সরকারের গ্যারান্টিযুক্ত এই প্রকল্পে আপনার বিনিয়োগ সম্পূর্ণ সুরক্ষিত। তাই দেরি না করে আজই নিকটবর্তী সিএসসি কেন্দ্রে যোগাযোগ করে নিজের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করুন।





