রাজ্যজুড়ে সরকারি স্কুলশিক্ষকদের ব্যক্তিগতভাবে গৃহশিক্ষকতা বা প্রাইভেট টিউশন করানো বন্ধ করতে এবার নজিরবিহীন কঠোর অবস্থান নিল রাজ্য সরকার। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের (NHRC) নির্দেশিকা পাওয়ার পরই বৃহস্পতিবার স্কুল শিক্ষা দফতর সমস্ত জেলার স্কুল পরিদর্শকদের (DI) স্পষ্ট নির্দেশ পাঠিয়েছে। কোনো সরকারি শিক্ষকের বিরুদ্ধে টিউশনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে, অবিলম্বে কঠোর আইনি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
আইন কী বলছে? ২০০৯ সালের শিশুদের নিখরচায় ও বাধ্যতামূলক শিক্ষার অধিকার আইন (RTE Act)-এর ২৮ নম্বর ধারায় স্পষ্টভাবে নিষেধ করা হয়েছে যে, কোনো সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষক বা শিক্ষিকা ব্যক্তিগতভাবে গৃহশিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারবেন না। দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল, বহু শিক্ষক এই নিয়ম অমান্য করে নিজেদের কাছেই ছাত্রছাত্রীদের টিউশন পড়তে বাধ্য করছেন। অনেক ক্ষেত্রে টিউশন না পড়লে প্রজেক্ট বা পরীক্ষায় নম্বর কমিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও সামনে এসেছিল।
শিক্ষক সংগঠন ও বিশিষ্টজনদের প্রতিক্রিয়া: সরকারের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেও, শিক্ষামহল সমস্যার গভীরে নজর দেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন।
শিক্ষানুরাগী ঐক্যমঞ্চ: সাধারণ সম্পাদক কিংকর অধিকারী বলেন, “স্কুলের সার্বিক পরিকাঠামো ও শিক্ষার মানোন্নয়নই প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। স্কুল থেকেই যদি সম্পূর্ণ শিক্ষা পাওয়া যায়, তবেই ছাত্রছাত্রীরা গৃহশিক্ষকের মুখাপেক্ষী হবে না।”
গৃহশিক্ষক কল্যাণ সমিতি: রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তে আশাবাদী পশ্চিমবঙ্গ গৃহশিক্ষক কল্যাণ সমিতি। তাদের মতে, সরকারি শিক্ষকরা টিউশন না করালে গৃহশিক্ষকতার ওপর নির্ভরশীল সাধারণ শিক্ষিত বেকাররা সঠিক সুযোগ পাবেন। তবে তাদের হুঁশিয়ারি, নির্দেশিকা যেন কেবল কাগজ-কলমে সীমাবদ্ধ না থাকে।
প্রশাসনের লক্ষ্য: সরকারের এই কড়া মনোভাবের ফলে সরকারি স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের এখন কেবল বিদ্যালয়ের পাঠদান ও মানোন্নয়নের দিকেই মনোনিবেশ করতে হবে। শিক্ষা দফতরের নির্দেশ স্পষ্ট—নিয়ম ভাঙলে ছাড় নেই। এখন দেখার, প্রশাসন এই সিদ্ধান্ত কতটা কঠোরভাবে কার্যকর করতে পারে।





