দেশের মূল ভূখণ্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে পা রাখল দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু। বৃহস্পতিবার মৌসম ভবন (IMD) নিশ্চিত করেছে যে, কেরালায় বর্ষা প্রবেশ করেছে। কিন্তু অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, ভারতের এত রাজ্যের মধ্যে মৌসুমি বায়ু প্রতি বছর কেন কেরালা দিয়েই প্রথম প্রবেশ করে? এর পেছনে রয়েছে এক বিশেষ ভৌগোলিক ও বৈজ্ঞানিক কারণ।
কেন কেরালাই প্রথম প্রবেশদ্বার? ভারত মহাসাগর থেকে ধেয়ে আসা আর্দ্রতাপূর্ণ দক্ষিণ-পশ্চিমী বায়ুপ্রবাহ ভারতীয় উপমহাদেশে প্রবেশের সময় সর্বপ্রথম কেরালা উপকূলের মুখোমুখি হয়। এর পেছনের মূল কারণগুলো হলো:
ভৌগোলিক অবস্থান: ভারত মহাসাগরের বিস্তীর্ণ জলরাশি থেকে আর্দ্রতা সংগ্রহ করে এই বায়ুপ্রবাহটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়। যেহেতু কেরালা ভারতের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তের প্রথম প্রধান স্থলভাগ, তাই সমুদ্র থেকে আসা এই আর্দ্র বায়ু সবার আগে এখানেই ধাক্কা খায়।
পশ্চিমঘাট পর্বতমালার ভূমিকা: কেরালা উপকূলের সমান্তরালে বিস্তৃত পশ্চিমঘাট পর্বতমালা এখানে একটি শক্তিশালী ‘প্রাকৃতিক দেয়াল’ বা প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করে। এই বিশাল পর্বতমালায় বাধা পেয়ে আর্দ্র বায়ুপ্রবাহ ওপরের দিকে উঠতে বাধ্য হয়।
রুদ্ধতাপীয় শীতলীকরণ (Adiabatic Cooling): ওপরে ওঠার সাথে সাথে বায়ুর তাপমাত্রা কমতে থাকে এবং তার ফলে জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে মেঘে পরিণত হয়। এই প্রক্রিয়ার ফলেই কেরালায় প্রথম বৃষ্টিপাত শুরু হয়।
মৌসুমি বায়ুর গতিপথ: মৌসুমি বায়ু মূলত দুটি শাখায় বিভক্ত। আরব সাগরীয় শাখাটি কেরালা ও কর্ণাটক উপকূলে প্রথম আঘাত হানে এবং পশ্চিমঘাট পর্বতমালার সহায়তা নিয়ে বৃষ্টিপাত ঘটায়। অন্যদিকে, বঙ্গোপসাগরীয় শাখাটি উত্তর-পূর্ব ভারত ও বাংলার দিকে এগিয়ে যায়। ৪ জুন ২০২৬-এর তথ্য অনুযায়ী, মৌসুমি বায়ু ইতোমধ্যে লাক্ষাদ্বীপ, কেরালা, কর্ণাটক ও তামিলনাড়ুর কিছু অংশে ছড়িয়ে পড়েছে।
উপসংহার: আবহাওয়া বিজ্ঞানীদের মতে, এটি কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়, বরং ভারতের উপকূলীয় ভৌগোলিক গঠন এবং সমুদ্র ও স্থলভাগের তাপমাত্রার পার্থক্যেরই ফসল। কেরালায় বর্ষার আগমনের অর্থ হলো সারা দেশের জন্য তৃষ্ণার্ত মাটির শীতল হওয়ার অপেক্ষা শুরু হওয়া।





