দার্জিলিংয়ে রাজু বিস্তার জয়! মুখ্যমন্ত্রীর বিশেষ হস্তক্ষেপে সরকারি পরিষেবার দরজা খুলল শ্রমিকদের জন্য

দীর্ঘ দেড় দশকের বঞ্চনার শৃঙ্খল ভেঙে অবশেষে পাহাড়, তরাই ও ডুয়ার্সের চা ও সিঙ্কোনা বাগান শ্রমিকদের জন্য এল চূড়ান্ত স্বস্তির খবর। সরকারি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে রাজ্য সরকারের ‘হোম অ্যান্ড হিল অ্যাফেয়ার্স’ বিভাগ জানিয়ে দিল, এখন থেকে এই এলাকার বাসিন্দারা রাজ্যের প্রতিটি উন্নয়নমূলক ও কল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা সমানভাবে পাবেন। দীর্ঘদিন ধরে যে অধিকার থেকে তারা বঞ্চিত ছিলেন, অবশেষে তা বাস্তবায়িত হওয়ায় উত্তরের চা বলয়ে খুশির জোয়ার বইছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত ২৯ মে, যখন দার্জিলিংয়ের সাংসদ তথা বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র রাজু বিস্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চিঠি লেখেন। চিঠিতে তিনি স্পষ্ট করেন, গত ১৫ বছর ধরে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তৃণমূল সরকারের আমলে পাহাড় ও ডুয়ার্সের শ্রমিকরা সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। বিজেপি সমর্থক হওয়ার ‘অপরাধেই’ তাঁদের উন্নয়নের আলো থেকে সরিয়ে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ তোলেন তিনি। সাংসদের সেই অনুরোধে সাড়া দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাকে উত্তরবঙ্গের আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতির উন্নয়নে একটি মাইলফলক হিসেবে দেখছে রাজনৈতিক মহল।

এই ঘোষণার পর সাংসদ রাজু বিস্তা মুখ্যমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “পাহাড় ও ডুয়ার্সের মানুষের পক্ষ থেকে আমি মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। তিনি আজ বাগান এলাকার মানুষের জন্য সমস্ত সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের পথ প্রশস্ত করেছেন।” তিনি আরও জানান, এই সিদ্ধান্তের ফলে এখন থেকে চা ও সিঙ্কোনা বাগানের শ্রমিকরা আয়ুষ্মান ভারত, উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা, অঙ্গনওয়াড়ি ও আইসিডিএস-এর মতো মৌলিক সুবিধাগুলি কোনো বাধা ছাড়াই পাবেন।

শুধুমাত্র স্বাস্থ্য বা সমাজকল্যাণই নয়, পরিকাঠামোগত উন্নয়নেও এই সিদ্ধান্ত বড় ভূমিকা নেবে। রাজু বিস্তার কথায়, “এখন থেকে জল জীবন মিশন, ১২৫ দিনের কাজ এবং ন্যাশনাল রুরাল লাইভলিহুড মিশনের মাধ্যমে এই এলাকায় বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনা ও স্বচ্ছ ভারত অভিযানের মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলিও দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন হবে।” তিনি জানান, রুগ্ন বাগানের শ্রমিকদের জন্য বৈচিত্র্যময় কর্মসংস্থান, মহিলাদের স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে ক্ষমতায়ন এবং শিশুদের মিড-ডে মিল ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার সুযোগও এখন থেকে নিশ্চিত করা হলো।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই যৌথ উদ্যোগ চা-শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ প্রশমিত করবে। এর আগে রাজনৈতিক জটিলতার কারণে যে প্রকল্পগুলো থমকে ছিল, এখন তা বাগান কর্মীদের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে। রাজু বিস্তার কথায়, “আমরা বাগান কর্মীদের পাশে ছিলাম, আছি এবং থাকব। আগামিদিনে এই অঞ্চলের মানুষের জীবনে আরও অনেক ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।” সব মিলিয়ে, রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে পাহাড়ের কয়েক লক্ষ মানুষের জীবনের মানচিত্র বদলে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy