রাজ্যের ভোট পরবর্তী সন্ত্রাসের আবহে আরও এক বড়সড় ধাক্কা খেল তৃণমূল কংগ্রেস। পুলিশি অভিযানের অংশ হিসেবে এবার গ্রেফতার করা হলো দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা এলাকার দাপুটে তৃণমূল নেতা বাপি শেখকে। বাপি শেখকে বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবেই পরিচিত। গতকাল গভীর রাতে নোদাখালি থানার পুলিশ বিশেষ তল্লাশি চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করে। তাঁর গ্রেফতারির খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল পড়ে গেছে।
অভিযোগ, নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই ফলতা এলাকায় বিভিন্ন ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ ও সন্ত্রাসের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত ছিলেন বাপি শেখ। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভয় দেখানো, দলীয় ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে এলাকা দখল করা এবং বিরোধীদের ওপর চড়াও হওয়ার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে দীর্ঘ দিন ধরেই জমা হচ্ছিল। নোদাখালি থানায় এক বিজেপি কর্মীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ বাপি শেখের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। সেই অভিযোগের সূত্র ধরেই গতকাল রাতে তাঁকে পাকড়াও করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বাপি শেখের বিরুদ্ধে ভোট পরবর্তী সন্ত্রাস ছাড়াও আরও বেশ কিছু অভিযোগ রয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক জেরায় জানা গিয়েছে, ফলতা অঞ্চলে আধিপত্য বজায় রাখতে বাপি শেখ তাঁর রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করতেন। এলাকায় বিজেপি কর্মীদের ওপর আক্রমণ এবং বিভিন্ন ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনায় তাঁর নাম বারবার উঠে এসেছে। দীর্ঘ দিন ধরে পুলিশের নজরদারিতে থাকা এই তৃণমূল নেতাকে ধরতে মরিয়া হয়ে উঠেছিল নোদাখালি থানা। গতকাল রাতের এই সাফল্য পুলিশি তদন্তের ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ বলেই মনে করা হচ্ছে।
জাহাঙ্গির খান ঘনিষ্ঠ এই তৃণমূল নেতার গ্রেফতারিতে এখন সিঁদুরে মেঘ দেখছে জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশ। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, জাহাঙ্গির খানের পর বাপি শেখের মতো ঘনিষ্ঠ নেতাদের গ্রেফতারি আসলে তৃণমূলের অন্দরে অস্থিরতা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। নির্বাচনের পর থেকে একের পর এক নেতার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং তাদের ধারাবাহিক গ্রেফতারি প্রশাসনিক মহলের কড়া মনোভাবেরই পরিচয় দেয়।
ধৃত বাপি শেখকে আজ আদালতে পেশ করা হবে বলে জানা গেছে। পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানাবে। এই গ্রেফতারির পর ফলতা এলাকায় নতুন করে যাতে কোনো অশান্তি না ছড়ায়, তার জন্য এলাকায় পুলিশি টহলদারি বাড়ানো হয়েছে। তবে বাপি শেখের গ্রেফতারি যে তৃণমূলের স্থানীয় স্তরের সাংগঠনিক কাঠামোয় বড়সড় ফাটল ধরাতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার বিষয়, আগামী দিনে তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয় এবং বাপি শেখের বয়ানে জাহাঙ্গির খান বা দলের অন্য কোনো বড় নেতার নাম উঠে আসে কি না।





