জালিয়াতি মামলায় বড় মোড়! হাইকোর্টে আবেদন খারিজ, অভিষেককে নিয়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তা

বিধানসভার নথিতে স্বাক্ষর জালিয়াতি মামলায় আইনি লড়াইয়ে বড়সড় ধাক্কা খেলেন ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সিআইডির হাজিরা নোটিশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাইকোর্টে দায়ের করা মামলার দ্রুত শুনানির আবেদন শুক্রবার খারিজ করে দিল আদালত। ফলে এই হাই-ভোল্টেজ মামলার ভবিষ্যৎ এখন ঝুলে থাকল অনিশ্চয়তার মুখে।

ঘটনার সূত্রপাত গত ৩০ মে, যখন সিআইডি আধিকারিকরা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাট রোডের বাসভবনে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রথম নোটিশ ধরান। সেই নোটিশে ১ জুন ভবানী ভবনে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ ছিল। কিন্তু অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে অভিষেক সেই নির্দেশ এড়িয়ে যান এবং ১৫ দিনের সময় চান। সিআইডি সেই আবেদন অগ্রাহ্য করে অভিষেককে দ্বিতীয় দফায় নোটিশ পাঠিয়ে ৮ জুন সশরীরে হাজিরার কড়া নির্দেশ দেয়। এই নোটিশকেই চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সাংসদ কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন।

শুক্রবার আদালতে মামলার দ্রুত শুনানির আর্জি জানান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী তথা তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। মামলাটি কার্যতালিকায় ২১১ নম্বরে থাকলেও তার শুনানি আগে করার জন্য বিচারপতি চৈতালী চট্টোপাধ্যায় দাসের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। কিন্তু বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই মামলায় কোনো বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে না। নিয়ম মেনেই তালিকা অনুযায়ী শুনানি হবে। আদালতের এই কঠোর অবস্থানের ফলে মামলার শুনানি আজই হবে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, যদি আজকের মধ্যে আদালত কোনো অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ না দেয়, তবে সিআইডির দেওয়া ৮ জুনের হাজিরা নোটিশ বহাল থাকবে। অর্থাৎ, আদালতের বাইরে রাজনৈতিক উত্তাপ যেমন বাড়ছে, তেমনই আইনি ফাঁসে অভিষেকের অস্বস্তিও চরমে।

উল্লেখ্য, বিধানসভার নথিতে স্বাক্ষর জালিয়াতির তদন্তে সিআইডি ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) গঠন করেছে। তদন্তকারীদের দাবি, একাধিক নথিতে স্বাক্ষরের অসঙ্গতি মিলেছে, যার সুরাহা করতে সাংসদের বক্তব্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, তৃণমূলের দাবি, কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে ব্যবহার করে রাজনৈতিকভাবে বিরোধী কণ্ঠকে স্তব্ধ করার চেষ্টা করছে কেন্দ্র।

রাজনৈতিক ও আইনি—উভয় দিক থেকেই এই মুহূর্তটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এখন সবার নজর আদালতের দিকে। তালিকার ২১১ নম্বর মামলাটি শেষ পর্যন্ত আজকের কর্মদিবসের মধ্যে শুনানির সুযোগ পায় কি না, তা-ই ঠিক করে দেবে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy