অবশেষে অপেক্ষার অবসান! দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর হাত ধরে কেরলে প্রবেশ করল বর্ষা। ভারতের আবহাওয়া বিভাগ (IMD) জানিয়েছে, ৪ জুন আরব সাগরের বিস্তীর্ণ অংশ, লাক্ষাদ্বীপ, কেরল, মাহে, কর্ণাটক এবং তামিলনাড়ুর একাংশে বর্ষার বিস্তার ঘটেছে। সাধারণত ১ জুনের আশেপাশে কেরলে বর্ষার আগমন ঘটলেও, এবার কিছুটা দেরিতে হলেও মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তায় দেশজুড়ে স্বস্তির আবহ তৈরি হয়েছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৬ জুন কেরলে ভারী বৃষ্টির জন্য সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
কেরলকে ভারতের ‘বর্ষার প্রবেশদ্বার’ বলা হয়। ভারত মহাসাগর থেকে আসা দক্ষিণ-পশ্চিমি বায়ু কেরলে প্রথম আঘাত হানে, যা পরবর্তীতে দুটি শাখায় বিভক্ত হয়ে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। একটি শাখা আরব সাগর হয়ে এবং অন্যটি বঙ্গোপসাগর হয়ে ভারতের মূল ভূখণ্ডে বৃষ্টি ঝরায়। এই প্রক্রিয়ায় ভারতের দক্ষিণ প্রান্ত থেকে উত্তর প্রান্ত পর্যন্ত পৌঁছাতে সাধারণত ১ থেকে দেড় মাস সময় লাগে। তবে বায়ুমণ্ডলের চাপ, সমুদ্রের তাপমাত্রা এবং বাতাসের গতিবিধির ওপর ভিত্তি করে এই সময়ের তারতম্য হতে পারে। যদি বাতাসের গতিবেগ বেশি থাকে, তবে ২০ থেকে ২৫ দিনের মধ্যেই বর্ষা উত্তর ভারতে পৌঁছাতে পারে। এছাড়া ‘ইন্টার-ট্রপিক্যাল কনভারজেন্স জোন’ (ITCZ)-এর অবস্থান বর্ষার গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
রাজ্যভিত্তিক বর্ষার সম্ভাব্য সময়সূচি:
৮ থেকে ১০ জুন: কর্ণাটক ও তামিলনাড়ু (ম্যাঙ্গালুরু, বেঙ্গালুরু ও উপকূলীয় অঞ্চল)।
জুনের মাঝামাঝি: অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা, গোয়া, মহারাষ্ট্র, ছত্তিশগড়, ওড়িশা এবং পশ্চিমবঙ্গ।
জুনের তৃতীয় ও চতুর্থ সপ্তাহ: ঝাড়খণ্ড, বিহার এবং পূর্ব উত্তরপ্রদেশ।
জুনের শেষ থেকে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহ: উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, দিল্লি-এনসিআর।
জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহ: পঞ্জাব, হরিয়ানা, রাজস্থান, হিমাচল প্রদেশ এবং কাশ্মীর।
এল নিনো-র ভ্রুকুটি কাটিয়ে বর্ষার এই আগমন উত্তর ভারতের জনজীবনে বড় স্বস্তি নিয়ে এসেছে। প্রচণ্ড দাবদাহে বিপর্যস্ত সাধারণ মানুষ এখন বৃষ্টির অপেক্ষায় দিন গুনছেন। আবহাওয়ার এই পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কৃষিকাজ এবং জলসম্পদ ব্যবস্থাপনায় নতুন গতির আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা।





