প্রেমের টানে নিজের মেয়েকেই খুন! শাশুড়ি-জামাইয়ের অবৈধ সম্পর্কের জঘন্য পরিণতিতে শিউরে উঠল দেশ

নিজের নাবালিকা মেয়েকে খুনের অভিযোগে আরারিয়ায় গ্রেপ্তার হলেন মা শাইস্তা পারভীন এবং তার জামাই আব্বু নাসার। শাইস্তার পুলিশের কাছে দেওয়া স্বীকারোক্তি শিউরে ওঠার মতো। তিনি জানান, নিজের মেয়ের জীবন কেড়ে নিয়েছিলেন শুধুমাত্র তার অবৈধ সম্পর্কের পথে বাধা সরাতেই। শাইস্তা পুলিশের কাছে বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন কীভাবে তিনি তার জামাইয়ের প্রতি অন্ধ মোহে জড়িয়ে পড়েছিলেন।

২০০৯ সালে শাইস্তার বিয়ে হয় মোহাম্মদ মুদাশিরের সঙ্গে, ২০১০ সালে জন্ম হয় তাদের মেয়ে সাজিদার। প্রায় ১০ বছর সংসার সুখের হলেও, কাজের প্রয়োজনে স্বামী মুদাশির বাইরে থাকায় একাকীত্ব গ্রাস করে শাইস্তাকে। এই সুযোগে শাইস্তা তার বোনের দেবর আব্বু নাসারের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। প্রথমে ফেসবুক মেসেজ ও দীর্ঘ সময় ধরে ফোনে কথা বলার মাধ্যমেই শুরু হয় তাদের গোপন প্রেম, যা ধীরে ধীরে শারীরিক ঘনিষ্ঠতায় রূপ নেয়।

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে পরিস্থিতি মোড় নেয় এক ভয়াবহ দিকে। আব্বু নাসারের মা প্রস্তাব দেন যে, শাইস্তার মেয়ে সাজিদার সঙ্গে আব্বুর বিয়ে হোক। শাইস্তা প্রথমে রাজি না হলেও, আব্বু নাসার তাকে প্রলুব্ধ করেন এই বলে যে, সাজিদা বিয়ে করলে জামাই হিসেবে তার বাড়িতে আসা-যাওয়া সহজ হবে এবং তাদের অবৈধ সম্পর্ক নিয়ে সমাজ কোনো প্রশ্ন তুলবে না। চরম বিরোধিতার মুখেও শাইস্তা তার নাবালিকা মেয়েকে এই বিয়েতে বাধ্য করেন। ২০২৬ সালের ১১ই এপ্রিল মাদ্রাসার শিক্ষক আব্বু নাসারের সঙ্গে সাজিদার বিয়ে হয়।

বিয়ের পর থেকেই শাইস্তা মেয়ের বাড়িতে নিয়মিত যাতায়াত শুরু করেন। কিন্তু সেই পাপের সম্পর্ক বেশিদিন গোপন থাকেনি। একদিন সাজিদা তার মা এবং স্বামীকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলে। সাজিদা তার মাকে কঠোরভাবে নিষেধ করে স্বামীর থেকে দূরে থাকতে। সাজিদা যখন সব সত্যি তার বাবাকে বলে দেওয়ার হুমকি দেয়, তখনই শাইস্তা ও আব্বু তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে।

১লা মে রাতে শাইস্তা অসুস্থতার নাটক করে সাজিদাকে মোটরসাইকেলে করে আব্বু নাসারের বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে নির্মমভাবে মারধর করে তাকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর মৃতদেহ নিয়ে তারা ফিরে আসে মুদাশিরের বাড়িতে। বাবা মুদাশিরের সন্দেহ হওয়ায় তিনি পুলিশকে খবর দেন। আরারিয়া আরএস থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করে। অভিযুক্ত মা ও জামাই দুজনেই অপরাধ স্বীকার করেছেন। সম্পর্কের নোংরা খেলায় একটি নিষ্পাপ জীবনের মর্মান্তিক পরিণতি দেখে স্তম্ভিত পুরো এলাকা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy