ফুটবল বিশ্বের চোখ এখন ২০২৬ বিশ্বকাপের দিকে। ইতিহাস গড়ে ৪৮টি দল নিয়ে আয়োজিত হতে চলেছে এবারের বিশ্বমঞ্চ। তিনটি দেশে—যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে আয়োজিত এই মেগা টুর্নামেন্ট নিয়ে শুরু হয়েছে চরম উত্তেজনা। ফিফা বিশ্বকাপের ১২টি গ্রুপে মোট ৪৮টি দেশের এই বিশাল অংশগ্রহণে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে এখন একটাই আলোচনার বিষয়—‘গ্রুপ অব ডেথ’ বা মৃত্যুর কূপ কোনটি?
ক্রীড়া বিশ্লেষক ও নেটিজেনদের চুলচেরা বিশ্লেষণে উঠে এসেছে গ্রুপ-এল, গ্রুপ-আই এবং গ্রুপ-সি-এর নাম। প্রতিটি গ্রুপেই রয়েছে এমন সব দল, যারা নিজেদের দিনে যে কাউকে হারানোর ক্ষমতা রাখে। তবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন গ্রুপ-এল। এই গ্রুপে রয়েছে ফুটবল পরাশক্তি ইংল্যান্ড, গত দুই বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট ক্রোয়েশিয়া, আফ্রিকার শক্তিশালী দল ঘানা এবং পানামা। ২০১৮ সালের রানার্স-আপ এবং ২০২২ সালের সেমিফাইনালিস্ট ক্রোয়েশিয়াকে নিয়ে ফুটবল বিশ্ব আবারও বড় আশার স্বপ্ন দেখছে। লুকা মদরিচ, মাতেও কোভাসিচ এবং জোস্কো গভার্দিওলের মতো তারকারা যখন মাঠে নামবেন, তখন প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ যে কেঁপে উঠবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে গ্রুপ-আই, যেটিকে অনেকে এবারের বিশ্বকাপের প্রকৃত ‘গ্রুপ অব ডেথ’ হিসেবে চিহ্নিত করছেন। ফ্রান্স, নরওয়ে, সেনেগাল এবং ইরাককে নিয়ে গঠিত এই গ্রুপটি যথেষ্ট ভারসাম্যপূর্ণ। ২০২২ বিশ্বকাপের রানার্স-আপ ফ্রান্স এবারও কিলিয়ান এমবাপ্পের নেতৃত্বে শিরোপার অন্যতম প্রধান দাবিদার। তাদের সঙ্গে আর্লিং হ্যালান্ড বা মার্টিন ওডেগার্ডের নরওয়ে এবং সেনেগালের মতো গতিময় দলের লড়াই দেখার জন্য মুখিয়ে আছে বিশ্ব।
অন্যদিকে, গ্রুপ-সি নিয়েও আলোচনা তুঙ্গে। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল এই গ্রুপে রয়েছে মরক্কো, হাইতি এবং স্কটল্যান্ডের মতো দলের সঙ্গে। মরক্কো যে বড় বড় দলকে চমকে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে, তা তারা গত বিশ্বকাপেই প্রমাণ করেছে। ফলে এই গ্রুপটি বেশ ভারসাম্যপূর্ণ এবং যেকোনো সময় অঘটন ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে এই উত্তেজনার মধ্যেই ফুটবল প্রেমীদের জন্য রয়েছে একটি আক্ষেপের খবর। বাছাইপর্বে বসনিয়ার কাছে অপ্রত্যাশিত হারে ইতালি তাদের বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন হারিয়েছে। নর্থ আমেরিকার মাঠে ইতালির অনুপস্থিতি অনেকের কাছেই বড় চমক হিসেবে দেখা দিয়েছে।
এবারের ৪৮ দলের ফরম্যাটে গ্রুপ ম্যাচগুলো আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন এবং প্রতিযোগিতামূলক হবে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথম এতো বিশাল পরিসরে আয়োজন করা হচ্ছে। ফলে একটি গ্রুপের সব দলই যদি শক্তিশালী হয়, তবে কোনো দলের জন্যই নকআউট পর্বে যাওয়ার পথ সহজ হবে না। এখন দেখার বিষয়, এই কঠিন গ্রুপগুলোর বাধা পেরিয়ে কোন কোন দেশ নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে শেষ পর্যন্ত শিরোপার লড়াইয়ে টিকে থাকে। মাঠের লড়াই শুরু হওয়ার আগেই ফুটবলবিশ্বে এখন আলোচনার তুঙ্গে এই তিন ‘গ্রুপ অব ডেথ’।





