নিউটাউনে ব্যবসায়ী খুনে বড় মোড়! প্রাক্তন বিডিও প্রশান্ত বর্মনকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ হাইকোর্টের

নিউটাউনে স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যা খুনের ঘটনায় ফের চাঞ্চল্যকর মোড়। এই মামলায় রাজগঞ্জের প্রাক্তন বিডিও প্রশান্ত বর্মনকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি অপূর্ব সিনহা রায়ের বেঞ্চ কড়া নির্দেশ দিয়ে জানিয়েছে, প্রশান্ত বর্মনকে হেফাজতে নিয়ে আগামী ১০ দিনের মধ্যে বিস্তারিত রিপোর্ট রাজ্য পুলিশের ডিজি-কে জমা দিতে হবে। একইসঙ্গে, খুনের মামলার তদন্তে চূড়ান্ত গাফিলতি ও ঢিলেমির দায়ে তদন্তকারী পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় পদক্ষেপ গ্রহণেরও নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

উল্লেখ্য, গত বছর ২৯ অক্টোবর নিউটাউনের যাত্রাগাছির খালপাড় থেকে ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যার মৃতদেহ উদ্ধার হয়। পরিবারের অভিযোগ ছিল, অপহরণ করে খুন করা হয়েছে তাঁকে। ঘটনার নেপথ্যে রাজগঞ্জের তৎকালীন বিডিও প্রশান্ত বর্মনের প্রত্যক্ষ যোগসাজশ রয়েছে বলে দাবি করে নিহতের পরিবার। বারাসাত আদালতে প্রশান্ত বর্মন দাবি করেছিলেন ঘটনার সময় তিনি শহরের বাইরে একটি হোটেলে ছিলেন এবং তার রশিদও দাখিল করেছিলেন। কিন্তু বিধাননগর পুলিশ হাইকোর্টে জানায়, ওই হোটেলের রশিদটি সম্পূর্ণ ভুয়া। এরপরই উচ্চ আদালত এই নির্দেশ দেয়।

এই মামলার তদন্ত নিয়ে বিধাননগর পুলিশের ভূমিকায় চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিচারপতি অপূর্ব সিনহা রায়। তিনি স্পষ্ট প্রশ্ন তুলেছেন, ঘটনার এতদিন পরেও কেন মূল অভিযুক্তরা অধরা? কেন অভিযুক্ত বিডিওর বিষয়ে চার্জশিটে গোপনীয়তা বজায় রাখা হয়েছে? তদন্তে এই গাফিলতিকে আদালত যথেষ্ট গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।

ইতিমধ্যে, এই মামলায় কোচবিহারের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা সজল সরকারও অভিযুক্ত। সম্প্রতি তিনি জামিনের আবেদন জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন, কিন্তু বুধবার আদালত সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর থেকেই প্রশান্ত বর্মন আত্মগোপন করেছিলেন। তবে গত সপ্তাহে সল্টলেকে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়লে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। সেই ঘটনার পর এবার হাইকোর্টের এই কঠোর নির্দেশে প্রাক্তন বিডিওর অস্বস্তি যে কয়েক গুণ বেড়ে গেল, তা বলাই বাহুল্য। এশিয়ানেট নিউজ বাংলার কাছে আসা তথ্যানুযায়ী, হাইকোর্টের এই পর্যবেক্ষণ তদন্তের মোড় সম্পূর্ণরূপে ঘুরিয়ে দিল। এখন দেখার বিষয়, আগামী ১০ দিনের মধ্যে ডিজি কী রিপোর্ট পেশ করেন এবং মূল অপরাধীরা কত দ্রুত আইনের মুখোমুখি হয়।