জোর করে কাজ করানোর মাধ্যমে পণ্য উৎপাদনের অভিযোগে ভারত-সহ বিশ্বের ৬০টি বড় অর্থনীতির দেশের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক বাণিজ্যিক পদক্ষেপের পথে হাঁটছে আমেরিকা। মার্কিন বাণিজ্য নিয়ামক সংস্থা ‘ইউনাইটেড স্টেটস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ’ (USTR) গত মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, ভারতের মতো দেশগুলি এই ধরণের বেআইনি উৎপাদন ও আমদানি রুখতে পর্যাপ্ত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
মার্কিন প্রশাসনের অভিযোগ, অভিযুক্ত দেশগুলির এই ‘ঢিলেঢালা’ নীতির ফলে মার্কিন ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে এবং বিশ্ব বাজারে এক অসম প্রতিযোগিতার সৃষ্টি হয়েছে। ১৯৭৪ সালের মার্কিন বাণিজ্য আইনের বিশেষ ধারা বা ‘সেকশন ৩০১’ অনুযায়ী এই দেশগুলির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন বাণিজ্য দূত জেমিসন গ্রি। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, “আমাদের প্রধান বাণিজ্যিক বন্ধুদের এই উদাসীনতা মেনে নেওয়া যায় না। এর ফলে মার্কিন শ্রমিকরা বিশ্ব বাজারে মার খাচ্ছেন।”
এই তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে আমেরিকা ওই দেশগুলি থেকে আসা পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক বা ট্যাক্স বসানোর প্রস্তাব দিয়েছে। যে দেশগুলি ইতিমধ্যেই এই ধরণের বেআইনি শ্রমের পণ্য রোখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তাদের ওপর ১০ শতাংশ এবং বাকিদের ওপর সাড়ে ১২ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক চাপানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এর পাশাপাশি পোশাক ও বস্ত্রশিল্পের জন্য আলাদা করের নিয়মও ভাবা হচ্ছে।
তালিকায় ভারতের পাশাপাশি ব্রিটেন, চিন, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর ও বাংলাদেশের মতো শক্তিশালী অর্থনীতিগুলিও রয়েছে। চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে শুরু হওয়া এই তদন্তে বহু বিশেষজ্ঞের মতামত ও সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, কিছু দেশের এই গাফিলতির কারণেই কম খরচে জিনিস তৈরি হয়ে বাজারে চলে আসছে, যা আইন মেনে ব্যবসা করা সংস্থাগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সমীকরণে বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।





