রাজ্য মন্ত্রিসভার শপথগ্রহণ পর্ব ঘিরে সোমবার রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গেল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন মন্ত্রিসভায় সোমবার শপথ নিলেন ৩৫ জন নতুন মন্ত্রী। সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী, রাজ্য মন্ত্রিসভায় মুখ্যমন্ত্রী সহ সর্বোচ্চ ৪৪ জন সদস্য থাকতে পারেন। সোমবারের এই শপথগ্রহণের পর নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৪১-এ। ফলে মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণের অবকাশ এখনও কিছুটা থাকলেও, প্রথম দফাতেই বিশাল আকারের মন্ত্রিসভা গঠন করে বিজেপি তার মাস্টারস্ট্রোক দিল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
সোমবারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে সবচেয়ে বড় চমক ছিল আঞ্চলিক ভারসাম্যের প্রতিফলন। নদিয়া জেলা ছাড়া রাজ্যের প্রায় প্রতিটি জেলা থেকেই মন্ত্রিসভায় প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে উত্তরবঙ্গ থেকে আসা জনপ্রতিনিধিদের জন্য এই মন্ত্রিসভা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উত্তরবঙ্গ থেকে দুর্দান্ত নির্বাচনী ফলাফলের পুরস্কার হিসেবে এবার ১০ জন বিধায়ককে মন্ত্রিসভায় জায়গা দেওয়া হয়েছে, যা বিজেপি নেতৃত্বের কাছে এই অঞ্চলের গুরুত্বকেই ফের প্রমাণ করল।
জেলা ভিত্তিক মন্ত্রীদের তালিকা বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, কলকাতার মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র থেকে ৩ জন মন্ত্রী শপথ নিয়েছেন। একইভাবে উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলা থেকে ৪ জন মন্ত্রী মন্ত্রিসভায় জায়গা করে নিয়েছেন। দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে ২ জন এবং পশ্চিমবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলো থেকে পর্যাপ্ত প্রতিনিধিত্ব রাখা হয়েছে।
নিচে জেলাভিত্তিক মন্ত্রীদের বর্তমান পরিসংখ্যান তুলে ধরা হলো:
কলকাতা: ৩ জন
উত্তর চব্বিশ পরগনা: ৪ জন
পশ্চিম মেদিনীপুর: ১ জন (ক্যাবিনেট)
দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ২ জন
পুরুলিয়া: ১ জন
বাঁকুড়া: ২ জন
বীরভূম: ২ জন
পূর্ব বর্ধমান: ২ জন (প্রথমবার জয়ী বিধায়িকা)
পশ্চিম বর্ধমান: ২ জন
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, পূর্ব বর্ধমান জেলা থেকে এবার এমন দুজন বিধায়িকাকে মন্ত্রিসভায় নেওয়া হয়েছে যারা এই প্রথমবারই বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। নতুনদের সুযোগ দিয়ে দলীয় সংহতি রক্ষার বার্তাই এর মাধ্যমে স্পষ্ট। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই মন্ত্রিসভা গঠন শুধুমাত্র প্রশাসনিক কাজের সুবিধার জন্যই নয়, বরং আগামী দিনের রাজনৈতিক সমীকরণ মাথায় রেখেই সাজানো হয়েছে। জেলাগুলির মধ্যে এই ভারসাম্য বজায় রাখার মাধ্যমে প্রতিটি অঞ্চলের মানুষের দাবি পূরণের বার্তা দিতে চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এখন দেখার বিষয়, এই বিশাল মন্ত্রিসভা রাজ্যের উন্নয়নে কতটা গতি সঞ্চার করতে পারে।





