মাসের শেষে বেতনের বড় অংশ ইএমআই (EMI) দিতে গিয়েই শেষ হয়ে যাচ্ছে? হোম লোন, কার লোন বা পার্সোনাল লোন—ঋণের বোঝা সামলাতে গিয়ে অনেকেরই নাভিশ্বাস ওঠে। কিন্তু আপনি কি জানেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ব্যাঙ্ক নিজেই আপনার এই মাসিক ইএমআই-এর বোঝা হালকা করার সুযোগ দেয়? সঠিক পথে এগোলে এবং ব্যাঙ্কের সঙ্গে সময়মতো কথা বললে আপনি সহজেই মাসের বাজেট ঠিক রাখতে পারেন।
ইএমআই কমানোর কার্যকরী উপায়সমূহ:
লোন রিস্ট্রাকচারিং (Loan Restructuring): যদি আপনার আয় কমে যায় বা পারিবারিক খরচ বেড়ে যায়, তবে ব্যাঙ্কের কাছে লোন রিস্ট্রাকচারিংয়ের আবেদন করুন। ব্যাঙ্ক আপনার লোনের মেয়াদ (Tenure) বাড়িয়ে দিতে পারে। মেয়াদ বাড়লে প্রতি মাসের কিস্তির পরিমাণ অনেকটাই কমে আসে।
ব্যালেন্স ট্রান্সফার (Balance Transfer): আপনার পুরনো লোনটি যদি উচ্চ সুদের হারে চলতে থাকে, তবে অন্য কোনো ব্যাঙ্কের কম সুদের অফার দেখে লোনটি সেখানে ট্রান্সফার করতে পারেন। এটি ইএমআই কমাতে এবং সুদের সাশ্রয় করতে দারুণ কার্যকর। তবে ট্রান্সফারের আগে প্রসেসিং ফি ও অন্যান্য লুকানো খরচগুলি যাচাই করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
ব্যাঙ্কের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা: অনেকেই ইএমআই দিতে দেরি করে জরিমানা (Late Fee) গুনতে শুরু করেন, যা ক্রেডিট স্কোর নষ্ট করে। তার চেয়ে সরাসরি ব্যাঙ্কের ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলুন। আপনার পুরোনো পেমেন্ট রেকর্ড ভালো থাকলে ব্যাঙ্ক সাধারণত সুদের হার কমানোর বা ইএমআই রিভিশনের সুযোগ দেয়।
ইএমআই যারা দেন, যে ভুলগুলো করবেন না: ১. কেবল ন্যূনতম টাকা জমা দেওয়া বা কিস্তি এড়িয়ে যাওয়া। ২. ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ইএমআই মেটানো (এটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল)। ৩. ইএমআই-এর তারিখ ভুলে যাওয়া (যার ফলে সিভিল স্কোর খারাপ হয়)। ৪. পুরনো লোন শোধ না করেই নতুন করে ঋণ নেওয়া। ৫. ব্যাঙ্কের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করা।
সতর্কবার্তা: মনে রাখবেন, ব্যাঙ্ক লোনের মেয়াদ বাড়ালে প্রতি মাসের কিস্তি কমবে ঠিকই, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে আপনাকে মোট সুদের পরিমাণ কিছুটা বেশি দিতে হতে পারে। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আপনার আর্থিক লক্ষ্য ও দীর্ঘমেয়াদী সাশ্রয়ের বিষয়টি অবশ্যই খতিয়ে দেখুন।





