‘অশ্রাব্য গালিগালাজ, ছিঁড়ল জামা!’-সোনারপুরে রোষের মুখে অভিষেক, দেখুন সেই ভিডিও

নির্বাচন পরবর্তী রাজনৈতিক উত্তাপের আবহে শনিবার বিকেলে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে চরম বিশৃঙ্খলার মুখে পড়লেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দলীয় নিহত কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে স্থানীয় মানুষের প্রবল রোষের মুখে পড়েন ডায়মন্ড হারবারের এই সাংসদ। তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ও জুতো ছোড়া হয় এবং ‘চোর-চোর’ স্লোগানে আকাশ-বাতাস মুখরিত করে তোলেন বিক্ষোভকারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষে তাঁকে মাথায় ক্রিকেট হেলমেট পরিয়ে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যেতে হয়।

কামরাবাদে রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতি শনিবার বিকেলে সোনারপুরের কামরাবাদ এলাকায় পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয় বিক্ষোভ। অভিযোগ, আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রাখা বিক্ষোভকারীরা অভিষেকের কনভয় ঘিরে ধরে অশ্রাব্য গালিগালাজ শুরু করেন। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে অভিষেক গাড়ি ছেড়ে বাইকে করে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি। বিক্ষোভকারীদের ধাক্কাধাক্কিতে তাঁর পরনের সাদা শার্টের বোতাম ছিঁড়ে যায় এবং চারপাশ থেকে জুতো ও ডিম ছুড়তে থাকেন স্থানীয়রা। প্রাণ বাঁচাতে বাধ্য হয়ে নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁকে হেলমেট পরিয়ে দেয়। এই চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি নিহত কর্মী সঞ্জু কর্মকারের বাড়ির দিকে হেঁটে এগিয়ে যান।

সিআইডি নোটিস ও উত্তপ্ত সফর এদিন নির্বাচনের ফল ঘোষণার তিন সপ্তাহ পর প্রথমবার রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বেরিয়েছিলেন অভিষেক। সোনারপুর ও বেলেঘাটায় আক্রান্ত কর্মীদের পরিবারকে সমবেদনা জানাতে যাওয়ার আগেই তাঁর সফরজুড়ে ছিল চাঞ্চল্য। জানা গেছে, শনিবার দুপুরে কলকাতার হরিশ মুখার্জি রোডের বাসভবন ‘শান্তিনিকেতন’-এ সিআইডির একটি দল যায়। বিধায়ক সই-কাণ্ডের তদন্তের প্রেক্ষিতে তাঁকে একটি নোটিস দেওয়া হয়। এরপর সিআইডির মুখোমুখি হয়েই তিনি সোনারপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হন, কিন্তু যাত্রাপথে পাটুলির ঢালাই ব্রিজ থেকে কামরাবাদ পর্যন্ত প্রতিটি মোড়েই বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের ‘গো ব্যাক’ স্লোগান ও বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয় তাঁকে।

বিস্ফোরক অভিযোগ স্থানীয় সূত্রের খবর, অভিষেকের সফরের কথা আগেভাগে জানতে পেরেই মহিলারা ডিম ও কালো পতাকা নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়েন। বিজেপি সমর্থকদের এই পরিকল্পিত বিক্ষোভ সামাল দিতে পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, এই ঘটনা পরিকল্পিত আক্রমণ, যার লক্ষ্য ছিল অভিষেকের শারীরিক হেনস্থা করা। অন্যদিকে, রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে, নির্বাচনের দীর্ঘ সময় পরেও কেন রাজ্যে এই ধরনের তীব্র জনবিক্ষোভ অব্যাহত?

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy